চিন এবং পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে জম্মু-কাশ্মীরের উল্লেখের তীব্র নিন্দা করল ভারত। এ প্রসঙ্গে নয়াদিল্লি তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর বা লাদাখের মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি নিয়ে অন্য দেশকে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার কথা বলে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
চিন এবং পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতির পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ প্রসঙ্গে নয়াদিল্লির অবস্থান আরও এক বার স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ‘‘ভারতের অবস্থান সুসঙ্গত এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছে তা সুপরিচিত। জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ— এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অতীতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, বর্তমানে আছে আর ভবিষ্যতেও থাকবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এ ব্যাপারে মন্তব্য করার অধিকার অন্য কোনও দেশের নেই।’’
শুধু জম্মু-কাশ্মীর নয়, চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে দু’দেশের মধ্যে যে অর্থনৈতিক করিডর এবং আন্তঃসীমান্ত জলসম্পদ সহযোগিতার উল্লেখ ছিল, ভারত এই দুই বিষয়ে চিন ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। রণধীরের কথায়, ‘‘চিন ও পাকিস্তানের অর্থনৈতিক করিডরের প্রকল্পগুলির মধ্যে কয়েকটি ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থিত। আমরা অন্য দেশের এ-হেন পদক্ষেপের দৃঢ় ভাবে বিরোধিতা করি এবং তা প্রত্যাখ্যান করি। এই বিষয়ে পাকিস্তান এবং চিন কর্তৃপক্ষকে একাধিক বার স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘‘আমরা চিন এবং পাকিস্তানের মধ্যে তথাকথিত ‘আন্তঃসীমান্ত জলসম্পদ সহযোগিতা’র উল্লেখ দেখেছি। আমরা স্পষ্ট করতে চাই, চিন এবং পাকিস্তান— দু’দেশের মধ্যে কোনও সীমান্ত নেই। তাই তথাকথিত এই আন্তঃসীমান্ত জলসম্পদ সহযোগিতা’র প্রশ্নই ওঠে না। পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৯৬৩ সালের সীমান্তচুক্তিকে কখনও স্বীকৃতি দেয় না ভারত।’’
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত ২৩ মে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ চিন সফরে যান। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াঙের সঙ্গে আলাদা ভাবে বৈঠক করেন শাহবাজ়। সফরের শেষ দিনে মঙ্গলবার ভারত-চিন এক যৌথ বিবৃতি দেয়। সেই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে চিনকে অবগত করেছে পাকিস্তান। চিন জানিয়েছে, রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ অনুযায়ী সেই সমস্যা সমাধান করা উচিত। সেই প্রেক্ষিতেই জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত।