Advertisement
E-Paper

ভদ্রেশ্বর পুরসভার নথি সরানোর অভিযোগ! গ্রেফতার ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ়, চেয়ারম্যান ইস্তফা দেন আগেই

পুরসভা সূত্রে খবর, সেখানকার বেশ কিছু নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুরসভার ইও ভদ্রেশ্বর থানায় ফিরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার দুপুরে ফিরোজকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১৯:০৫
ধৃত তৃণমূল নেতা ফিরোজ খান।

ধৃত তৃণমূল নেতা ফিরোজ খান। — ফাইল চিত্র।

হুগলির ভদ্রেশ্বর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খান গ্রেফতার। পুরসভার এগজ়িকিউটিভ অফিসারের (ইও) অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বৃহস্পতিবারই পুরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী-সহ আট জন কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছিলেন। তার পরে পুরসভা চালানোর দায়িত্ব পড়েছিল ফিরোজের কাঁধে। তাঁর বিরুদ্ধে পুরসভার নথি সরানোর অভিযোগ তুলেছেন ইও। তৃণমূলের একাংশের আশঙ্কা, ভেঙে পড়তে পারে পুরবোর্ড।

ফিরোজ ভদ্রেশ্বরের তেলিনিপাড়া এলাকার তৃণমূল নেতা। ২০২২ সালে পুরসভা ভোটে নির্বাচিত হন। তাঁকে ভাইস চেয়ারম্যান করে দল। চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের ‘আস্থাভাজন’ বলে দলে পরিচিত ছিলেন ফিরোজ। অভিযোগ, তেলিনিপাড়ায় অশান্তির ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তাঁর। দিন দুয়েক আগে ভদ্রেশ্বর পুরসভায় গিয়ে তিনি ঝমেলা করেছিলেন বলেও অভিযোগ।

পুরসভা সূত্রে খবর, সেখানকার বেশ কিছু নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুরসভার ইও ভদ্রেশ্বর থানায় ফিরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার দুপুরে ফিরোজকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে। শনিবার তাঁকে চন্দননগর আদালতে হাজির করানো হবে। তৃণমূল নেতা ফিরোজের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, যা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (চন্দননগর)।

বৃহস্পতিবার ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রলয়-সহ আট জন কাউন্সিলর ইস্তফা দেন। তৃণমূলের একটি সূত্রের বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক পালাবদলের পরে অনুদান পেতে সমস্যা হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে কাউন্সিলরেরা আর কাজ চালাতে চাইছেন না। বিজেপির একাংশের আবার কটাক্ষ, নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে নাম জড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করেই পদ ছেড়েছেন ওই কাউন্সিলরেরা।

চন্দননগর বিধানসভার অন্তর্গত ভদ্রেশ্বর পুরসভায় ২২টি ওয়ার্ড রয়েছে। গত পুর নির্বাচনে ২০টিতে জিতেছিল তৃণমূল। একটি আসনে বিজেপি এবং অন্যটিতে নির্দল প্রার্থী জিতেছিলেন। পরে তাঁরা দু’জন তৃণমূলে যোগ দেন। বিরোধীশূন্য এই পুরসভার প্রায় ১৪টি ওয়ার্ডেই বিধানসভা নির্বাচনে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। দলের প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন চন্দননগর বিধানসভায় পরাজিত হয়েছেন মোট ১৩ হাজার ভোটে। দলের বিপর্যয়ের নৈতিক দায় নেন প্রলয়। বৃহস্পতিবার ভদ্রেশ্বর পুরসভার এগ‌্‌জ়িকিউটিভ অফিসারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। প্রলয়ের দাবি, পরে তিনি জানতে পেরেছেন, আরও কয়েক জন ইস্তফা দিয়েছেন।

তৃণমূল নেতা-কর্মীদের একাংশ মনে করেছিলেন, ভদ্রেশ্বর পুরসভার আট তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় পুর বোর্ড চালাতে অসুবিধা হবে না। হাল ধরবেন ফিরোজ। এ বার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy