ফের বাড়তে চলেছে মোবাইল ফোনের রিচার্জের খরচ। পেট্রল-ডিজ়েলের মূল্যবৃদ্ধিতে এ বার সেই ইঙ্গিত দিলেন টেক বিশ্লেষকদের একাংশ। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও এই নিয়ে কোনও ঘোষণা করেনি জিয়ো, এয়ারটেল বা ভোডাফোনের মতো পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা। কিন্তু, তা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতিতে রিচার্জের দর ঊর্ধ্বমুখী হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
পেট্রল-ডিজ়েলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি মোবাইল ফোন রিচার্জের কোনও সম্পর্ক নেই। অতীতে যখন জ্বালানির দর স্থির ছিল তখনও এই খরচ বাড়িয়েছে একাধিক পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, অপ্রত্যক্ষ ভাবে ফোন রিচার্জের সঙ্গে পেট্রল-ডিজ়েল ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িত, কয়েকটি উদাহরণের সাহায্যে যা বুঝে নেওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
গ্রাহক তাঁর ফোনে পরিষেবা পায় মোবাইল টাওয়ারের মাধ্যমে। এই পরিকাঠামো ঠিক রাখার একটা বিরাট খরচ রয়েছে। এখনও ভারতের বহু প্রত্যন্ত এলাকায় মোবাইল টাওয়ার চালাতে ব্যবহার হয় ডিজ়েল। তা ছাড়া জিয়ো, এয়ারটেল বা ভোডাফোনের মতো সংস্থাগুলি ব্যবসা চালাতে কর্মীদের বেশ কয়েকটি ছোট ছোট দলে ভাগ করে নিয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে হয়। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে তাঁদের গাড়িভাড়ার খরচ যে বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
এ ছাড়া ইন্টারনেটের তথ্যভান্ডার বা ডেটা সেন্টারের কুলিং, মোবাইল পরিষেবার সরঞ্জামের পরিবহণ এবং সিম কার্ড বিলির জন্যও চাই জ্বালানি। আর তাই সাম্প্রতিক অতীতে মুনাফার অঙ্ক ঠিক রাখতে রিচার্জের খরচ বৃদ্ধির কথা বার বার জিয়ো, এয়ারটেল বা ভোডাফোনের মতো সংস্থাগুলিকে বলতে শোনা গিয়েছে। পেট্রল-ডিজেলের দামের সূচক ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় খুচরো মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা যথেষ্ট প্রবল। সেই সুযোগকে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি কাজে লাগাতে যে ঝাঁপাবে, তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুন:
তবে মোবাইল রিচার্জে বাড়তি খরচ এড়ানোরও উপায় রয়েছে। সেটা হল, অবিলম্বে বার্ষিক প্ল্যানে ফোন রিচার্জ করে নেওয়া। তাতে অবশ্য একবারে অনেকটা বেশি টাকা দিতে হবে গ্রাহককে। তবে রিচার্জের খরচ বেড়ে গেলে মাসের হিসাবে তাঁরা লাভবান হবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।