আর বিনামূল্যে মিলবে না ফেসবুক, হোয়াট্সঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের সব পরিষেবা। এ বার থেকে সংশ্লিষ্ট তিন সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের প্রিমিয়াম ফিচারের সুবিধা পেতে গ্যাঁটের কড়ি খরচ করতে হবে গ্রাহককে। মার্কিন টেক জায়ান্ট মেটার এ-হেন ঘোষণায় দুনিয়া জুড়ে পড়ে গিয়েছে শোরগোল। মার্ক জ়ুকারবার্গের সংস্থার সিদ্ধান্তে বিষয়স্রষ্টাদের (কনটেন্ট ক্রিয়েটার) কপাল পুড়বে না তো? তুঙ্গে জল্পনা।
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন মেটার প্রোডাক্ট হেড নাওমি গ্লাইট। সেখানেই ফেসবুক, হোয়াট্সঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রামের প্রিমিয়াম ফিচার ব্যবহারে পেইড সাবস্ক্রিপশন চালুর কথা জানিয়ে দেন তিনি। অর্থাৎ এ বার থেকে ফেসবুক প্লাস, ইনস্টাগ্রাম প্লাস ও হোয়াট্সঅ্যাপ প্লাসের সুবিধা পেতে হলে টাকা দিতে হবে গ্রাহককে।
আরও পড়ুন:
মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইনস্টাগ্রাম প্লাস ও ফেসবুক প্লাসের জন্য প্রতি মাসে খরচ হবে ৩.৯৯ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যেটা প্রায় ৩৪০ টাকা। অন্য দিকে হোয়াট্সঅ্যাপ প্লাসের জন্য মাসে ২.৯৯ ডলার দিলেই চলবে। এ দেশের অর্থে যেটা প্রায় ২৫৫ টাকার সমান।
বর্তমানে ব্যবহার হওয়া বিনামূল্যের অ্যাপগুলিকে এখনই বন্ধ করছে না মেটা। নাওমি জানিয়েছেন, কিছু গ্রাহক অতিরিক্ত ফিচার এবং প্রিমিয়াম টুলের সুবিধা নিতে চান। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই পেইড সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান চালু করা হয়েছে। আর তাই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
জ়ুকারবার্গের সংস্থা জানিয়েছে, ফেসবুক প্লাস এবং ইনস্টাগ্রাম প্লাসে অত্যাধুনিক অ্যানালিটিক্স, রিল বা স্টোরি ইচ্ছামতো বার বার দেখার সুবিধা, প্রোফাইল কাস্টমাইজ়ড এবং বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছোনোর আলাদা টুল থাকছে। সেটা বিষয়স্রষ্টা এবং নেটপ্রভাবীদের আকর্ষণ বাড়াবে বলেই মনে করছে এই মার্কিন টেক জায়ান্ট।
হোয়াট্সঅ্যাপ প্লাসের ক্ষেত্রে আবার ব্যক্তিবিশেষের সুবিধার দিকে বেশি নজর দিয়েছে মেটা। সেখানে প্রিমিয়াম স্টিকার, কাস্টম অ্যাপ থিম এবং দুর্দান্ত কিছু রিংটোন ব্যবহারের সুবিধা পাবেন গ্রাহক। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, আগামী দিনে সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক আরও কিছু প্ল্যান চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন নাওমি। তাতে বিষয়ভিত্তিক ভিডিয়ো বা ছবি, ব্যবসা এবং কৃত্রিম মেধার টুল থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির পরিকাঠামো তৈরিতে বিপুল লগ্নির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ়ুকারবার্গের সংস্থা। সেই লক্ষ্যে চলতি বছরে ১২,৫০০ কোটি থেকে ১৪,৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ করবে মেটা। এই অর্থে বিশাল বিশাল তথ্যভান্ডার বা ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর জেরে বিজ্ঞাপনভিত্তিক ব্যবসার মডেল থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট মার্কিন টেক জায়ান্ট, বলছেন বিশ্লেষকেরা।