ইরান যুদ্ধের জেরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেট্রলের দাম। আর তাই বৈদ্যুতিন স্কুটারের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন ভারতের দু’চাকা প্রেমীরা। ব্যাটারিচালিত যানটির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ বার সেখানেও উঠল প্রতারণার অভিযোগ, যা নিয়ে এক শ্রেণির নির্মাণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
কী ভাবে বৈদ্যুতিন স্কুটার কিনে ঠকে যাচ্ছেন ব্যবহারকারী? একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বুঝে নেওয়া যেতে পারে। এ দেশের বাজারে প্রথম বার স্মার্টফোন আসতে না আসতেই তা কেনার জন্য গ্রাহকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ওই সময় বহু সংস্থার বিরুদ্ধেই খারাপ গুণমানের ডিভাইস বেশি দামে বিক্রি করে অতিরিক্তি মুনাফা ঘরে তোলার অভিযোগ ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রথম প্রজন্মের ক্রেতাদের মধ্যে স্মার্টফোন সংক্রান্ত ধারণা ছিল খুবই সামান্য। ফলে মুঠোবন্দি ডিভাইস কেনার সময় আকছার ঠকতেন তাঁরা। বর্তমানে বৈদ্যুতিন স্কুটারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। খারাপ গুণমানের ব্যাটারিচালিত দু’চাকার যান বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা।
সূত্রের খবর, গত বছর (২০২৫ সাল) ‘বাজেট-বান্ধব’ বৈদ্যুতিন স্কুটার বিক্রির সংখ্যা ছিল কম-বেশি ১৩ লাখ। যেগুলির দাম ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় ঘোরাফেরা করেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট স্কুটারগুলির বড় অংশের গুণমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব থেকে শুরু করে বিক্রি পরবর্তী পরিষেবার দিকে তেমন নজর দিচ্ছে না ‘বাজেট-বান্ধব’ ব্যাটারিচালিত দু’চাকা যানের অধিকাংশ ব্র্যান্ড।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ভাবে ঠকতে থাকলে অচিরেই বৈদ্যুতিন স্কুটারের থেকে মুখ ফেরাবে গ্রাহক। ঠিক তখনই বেশি দামের উন্নত প্রযুক্তির ব্যাটারিচালিত দু’চাকার যান বাজারে আনবে এই সমস্ত ব্র্যান্ড। ফলে পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে এ বার সেগুলি কিনতে ঝাঁপাবে আমজনতা। এতে অল্প সময়ের ব্যবধানে দু’বার মুনাফা করার সুযোগ পাবে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থা। আর তাই বৈদ্যুতিন স্কুটার কেনার আগে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।