বহু দিন পৈতৃক ভিটের খোঁজ ছিল না। জানতেনও না সেই জমি কোথায়। শেষমেশ যুবককে সেই পৈতৃক ভিটে খুঁজে দিল কৃত্রিম মেধা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। অবিশ্বাস্য মনে হলেও তেমনটাই নাকি হয়েছে বলে দাবি উত্তরপ্রদেশের ওই যুবকের। কিন্তু কী ভাবে?
উত্তরপ্রদেশের গ্রামাঞ্চলে পৈতৃক জমি খোঁজার ওই যুবকের কাহিনি ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যুবক জানিয়েছেন, কী ভাবে একটি এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট তাঁকে নির্ভুল ভাবে সম্পত্তিটির অবস্থান এবং মানচিত্র খুঁজে বার করতে সাহায্য করেছে। পেশাদারদের সমাজমাধ্যম লিঙ্কডইনে সেই ঘটনার কথা শেয়ার করেছেন জাহিদ খান নামে ওই যুবক। তাঁর সেই পোস্ট নেটাগরিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
আরও পড়ুন:
জাহিদ ব্যাখ্যা করেছেন, জমিটি বংশ পরম্পরায় তার প্রপিতামহ থেকে পিতামহ, তার পর তাঁর বাবা এবং অবশেষে তাঁর কাছে হস্তান্তরিত হয়। তবে জমির সঠিক অবস্থান খুঁজে বার করা তাঁর পক্ষে সহজ ছিল না। যুবক লিখেছেন, ‘‘আমি জীবনে মাত্র কয়েক বার ওই গ্রামে গিয়েছি। তাই চেষ্টা করলেও কোথায় খুঁজতে হবে তা আমি জানতাম না।”
জাহিদ আরও জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশের মহম্মদপুর গ্রামে জমির নথি ডিজিটাইজ় করা ছিল। কিন্তু সেই নথি পাওয়া ছিল যথেষ্ট জটিল। নথিগুলি একাধিক সরকারি পোর্টালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল এবং জটিল সরকারি ভাষায় লেখা ছিল, যা বোঝা তাঁর পক্ষে কঠিন ছিল। এর পরেই তিনি প্রযুক্তি সংস্থা অ্যানথ্রোপিকের এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘ক্লড’-এর সাহায্য নেওয়ার কথা ভাবেন বলে জানিয়েছেন জাহিদ। এর পর যা ঘটে, তা সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী অনেককেই হতবাক করেছে।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, জাহিদের প্রয়াত বাবার নাম ব্যবহার করে জমির রেকর্ড অনুসন্ধান করে ‘ক্লড’। এমনকি, অন-স্ক্রিন কিবোর্ডের মাধ্যমে হিন্দিতে নামটি টাইপও করে। এটি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিটি জমি শনাক্ত করে এবং সরকারি তথ্যভান্ডার থেকে সংশ্লিষ্ট জমির নম্বরগুলো বার করে আনে। এর পর অ্যাসিস্ট্যান্টটি প্লটগুলির আনুমানিক জ্যামিতিক পরিমাপ সংগ্রহের জন্য একটি ম্যাপিং পোর্টালে প্রবেশ করে। সেখানেও একাধিক টুল ব্যবহার করে এআই অ্যাসিস্ট্যান্টটি। শেষমেশ যুবককে সফল ভাবে জমি খুঁজে বার করতে সাহায্য করে ‘ক্লড’।
জাহিদের ওই পোস্ট ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন। অনলাইনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে পোস্টটি। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। অনেকেই এটিকে এখনও পর্যন্ত দেখা এআই-এর সবচেয়ে অর্থবহ বাস্তব-জগতের ব্যবহারগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে অভিহিত করছেন। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘সত্যিই চিত্তাকর্ষক! এআই ব্যবহারের যে কয়েকটি বাস্তব উদাহরণ আমি দেখেছি, এটি তার মধ্যে অন্যতম, যা অত্যন্ত উপযোগী।’’