Advertisement
E-Paper

ধীরে হলেও নেট বাজারে ক্রেতা বাড়ছে গয়নার

নেটবাজারে গয়না বিক্রি বাড়ছে। তবে বই, মোবাইল, জামাকাপড়ের মতো রকেট গতিতে বৃদ্ধি নয়। গয়না শিল্পমহলের দাবি, ধীরে হলেও ক্রমশ ক্রেতাদের মানসিকতা বদলাচ্ছে। কয়েক বছর আগে ছোট মাপের গয়না কিনতে হলেও চেনাজানা সোনার দোকানে পৌঁছে যেতেন বেশির ভাগ ক্রেতা।

গার্গী গুহঠাকুরতা

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০১৬ ২১:১৬

নেটবাজারে গয়না বিক্রি বাড়ছে। তবে বই, মোবাইল, জামাকাপড়ের মতো রকেট গতিতে বৃদ্ধি নয়। গয়না শিল্পমহলের দাবি, ধীরে হলেও ক্রমশ ক্রেতাদের মানসিকতা বদলাচ্ছে।

কয়েক বছর আগে ছোট মাপের গয়না কিনতে হলেও চেনাজানা সোনার দোকানে পৌঁছে যেতেন বেশির ভাগ ক্রেতা। এখন ছোটখাটো গয়না কিনতে নেটবাজারে পা রাখতে পিছপা হচ্ছেন না অনেকেই। শিল্পমহলের দাবি, আগামী পাঁচ বছরে এই অনলাইন মাধ্যমে গয়না কেনার পরিমাণ ২৫০ কোটি ডলার ছুঁয়ে ফেলবে। আর এই সম্ভাবনার টানেই ফ্লিপকার্ট, ই-বে ও অ্যামাজনের মতো ই-কমার্স সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছে ছোট-বড় গয়না সংস্থাগুলি।

তবে বই, সিডি, ট্রেন-প্লেনের টিকেট, মোবাইল বা জামাকাপড়ের মতো অনলাইন বিক্রির রমরমা এখনও গয়না শিল্পে নেই। নেটবাজারে গয়না বিক্রির পরিমাণ এখনও মোট বিক্রির এক শতাংশের কম। তথ্য পরিসংখ্যান বলছে, ৫৫০০ কোটি ডলারের (৩ লক্ষ ৬৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) গয়নার বাজারে মাত্র ০.১ শতাংশ অনলাইন কেনাবেচার দখলে। তবে পরিমাণ কম হলেও মূল্যের নিরিখে তা নেহাত সামান্য নয় বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট শিল্পমহল।

কিন্তু এই ব্যবসা অল্প সময়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে না বলে মনে করছেন ক্যারাটলেন, ব্লু স্টোনের মতো অনলাইন গয়না বিক্রেতারাও। তাঁদের মতে, গয়না কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্রেতার আস্থা অর্জন মূল চ্যালেঞ্জ। সেই আস্থা জিতে নিতে বাড়ি বয়ে গয়না পৌঁছে দেয় এই দুই সংস্থা। ক্রেতারা পরে দেখে তারপরে টাকা দিতে পারেন। বি সি সেন অ্যান্ড কোম্পানির প্রধান সুবীর সেন জানান কেনার আগে এখনও গয়না ছুঁয়ে দেখতে চান ক্রেতারা। সেই শর্ত পূরণ করতেই বাড়িতে পরখ করার সুযোগ দিতে চায় অনলাইন সংস্থাগুলি।

ব্যবসার টানে অনলাইন দুনিয়ায় পা রেখেছে মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস, ত্রিভুবনদাস ভিমজি জাভেরি, গীতাঞ্জলির মতো গয়না ব্র্যান্ড। অনলাইন বাজারে গয়না বিক্রির উপর আস্থা রয়েছে রতন টাটার মতো শিল্পপতিরও। বেঙ্গালুরুর অনলাইন গয়না সংস্থা ব্লু স্টোনে বিনিয়োগ করেছেন টাটা। পিছিয়ে নেই এ রাজ্যের সংস্থাগুলিও। ইতিমধ্যেই নেটবাজারে পসরা সাজিয়েছে অঞ্জলি জুয়েলার্স ও সেনকো গোল্ড।

শুধুই ভিন্ রাজ্যে বিপণি নয়। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে ব্যবসা ছড়াতে এ বার নেট বাজারকেও বেছে নিচ্ছে সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস। নেট দুনিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি জোরালো করতে মার্কিন ই-কমার্স সংস্থা অ্যামাজন ইন্ডিয়ার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে সাতাত্তর বছরের পুরনো এই গয়না সংস্থা।

এই প্রথম পূর্বাঞ্চলের কোনও গয়না সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে অ্যামাজন। সংস্থার অন্যতম কর্তা ময়াঙ্ক শিবমের দাবি, ৩০০ শতাংশ হারে অনলাইন বাজারে গয়না বিক্রি বাড়ছে। বর্তমানে ৫৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের গয়না বাজারের মাত্র ০.১ শতাংশ নেট-বাজার দখল করতে পেরেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আগামী দশ বছরে এই বিক্রির পরিমাণ ২৫০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছে যাবে। আর এই ব্যবসার টানেই বড় গয়না সংস্থার সঙ্গে ব্যবসা বাড়াতে চায় অ্যামাজন।

সেনকো গোল্ডের অন্যতম কর্তা শঙ্কর সেন বলেন, ‘‘নেট থেকে এখনও ব্যবসার পরিমাণ মোট ব্যবসার মাত্র এক শতাংশ। কিন্তু ভবিষ্যতে তা বাড়তে বাধ্য। অন্যান্য রাজ্যেও বিক্রি বাড়াতে নেট দুনিয়া কাজে আসবে।’’

ডিজিটাল প্রজন্মকে নিজের ক্রেতা হিসেবে পেতে অনলাইন প্রযুক্তির হাত ধরেছে অঞ্জলি জুয়েলার্স। সংস্থার কর্ণধার অনর্ঘ চৌধুরীর দাবি, গয়না বিক্রির জন্য মোবাইল অ্যাপ চালু করার ক্ষেত্রে তারাই পূর্বাঞ্চলের প্রথম গয়না সংস্থা। তাঁর মতে, ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে থাকা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে চাই ডিজিটাল হাতিয়ার। যে হাতিয়ার হিসেবে তাঁর সংস্থা অ্যাপ চালু করেছে। তিনি জানান, মুঠোয় ধরা মোবাইলের মাধ্যমেই এই প্রজন্মকে নিজের ক্রেতা হিসেবে পাওয়া সহজ।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy