গুজবের জেরে ফের খাস কলকাতায় গণপিটুনি। শুক্রবার রাতে ফুলবাগানের কাঁকুড়গাছিতে শিশু চোর সন্দেহে এক যুবককে ল্যাম্প পোস্টে বেধে বেধড়ক মারধর করা হয়। পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করতে গেলে, উত্তেজিত জনতার সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবারও এলাকা থমথমে রয়েছে। গুজবের কান না দেওয়ার জন্যে কলকাতা পুলিশের তরফে আবেদন করা হচ্ছে। এ ছাড়াও চলছে সচেতনতা প্রচার। তার পরেও আটকানো যাচ্ছে না গণপিটুনি।তাই গুজব রুখতে এ বার নবান্ন থেকেই নজরদারি চালানো হবে। তার জন্যে ‘সোশ্যাল মিডিয়া মনিটারিং সেল’ গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৎপর পুলিশ প্রশাসন। শনিবার রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র জেলা সুপারদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। এর পাশাপাশি পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে কলকাতার পুলিশ কমিশনার ও সব থানার ওসি এবং ডেপুটি কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি থানাগুলিকে সতর্ক থাকতে বলেছে। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়েও গুজবে কান না দেওয়ার বিষয়ে প্রচার চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

কসবা, টালিগঞ্জ, আনন্দপুর, তিলজলা-তোপসিয়াতে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কলকাতার বাসিন্দা এক কাশ্মীরি চিকিৎসক হুমকির মুখে পড়েছেন। নদিয়ায় এক কাশ্মীরি শাল বিক্রেতা আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক কর্তাদের কঠোর হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বলেছেন।

আরও পড়ুন: নজরদারি, ভুয়ো খবর আর গুজব ছড়ানোয় শীর্ষে ভারত, বলছে মাইক্রোসফটের রিপোর্ট

নির্দেশ পাওয়ার পরই ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে ধড়পাকড় চলছে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে কে বা কারা গুজব ছাড়াছেন? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার রাজ্য জুড়ে ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। এই গুজবের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও। হাওড়ার জগাছায় শুক্রবার রাতে ফের একবার গুজব ছড়িয়ে পড়ে ছেলেধরা বেরিয়েছে। এই সন্দেহে এক মহিলাকে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ গিয়ে পরে তাকে উদ্ধার করে। ফুলবাগান থানা সূত্রে খবর, গণপ্রহারের জেরে ওই যুবক গুরুতর জখম হয়েছেন। তার চিকিৎসা চলছে।

আরও পড়ুন: ভয়ঙ্কর গুজব ছড়ানো হচ্ছে রাজ্যের কিছু জায়গায়, সতর্ক থাকুন, এ সবই মিথ্যে