মাঝেরহাটে সেতুভঙ্গের পরে নবান্নের তরফে রেল ও রাজ্যের সমন্বয় বৈঠকের কথা জানিয়েও সোমবার শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এখন বিকল্প রাস্তা চালু করার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রেল এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে শুরু হয়েছে টানাপড়েন।

পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়ে উঠেছে যে, পূর্ব রেলের কর্তাদের বক্তব্য, রাজ্য সরকার মাঝেরহাটে জোড়া লেভেল ক্রসিং তৈরির ‘আগ্রহ’ দেখাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু অত কম দূরত্বের মধ্যে দু’টি লেভেল ক্রসিং তৈরিলে বজবজ শাখায় যাত্রিবাহী ট্রেন চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিতে হবে। কেননা, যাত্রিবাহী ট্রেন ন্যূনতম যে-গতিতে চলে, তাতে ওই সব ক্রসিংয়ে গেট বন্ধই করা যাবে না। মালবাহী ট্রেনও চালানো যাবে শুধু রাতে। সর্বোপরি রেলের লাইন বদলের জন্য ওখানে এত পয়েন্ট আছে যে, ক্রসিং তৈরি করা মুশকিল।

সেতু বিপর্য়যের পরে এক সপ্তাহেরও বেশি কেটে গিয়েছে। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে রাজ্যের পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের এখনও কোনও বৈঠকই হয়নি বলে জানায় পূর্ব রেল। ওই রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারির রবি মহাপাত্র জানান, রাজ্যের পক্ষ থেকে বিকল্প রাস্তা তৈরির ব্যাপারে সরকারি ভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি তাঁদের।

রাজ্যের তরফে মাঝেরহাট সেতু এবং নিউ আলিপুরের মধ্যে কী ভাবে লেভেল ক্রসিং তৈরির কথা ভাবা হয়েছে, পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের আধিকারিকেরা সেই বিষয়েও অন্ধকারে। মাঝেরহাট সেতু ও নিউ আলিপুরের মধ্যে কয়েকশো মিটার দূরত্বের মধ্যে দু’টি লেভেল ক্রসিং তৈরি করা কার্যত অসম্ভব বলে জানান তাঁরা। শিয়ালদহ ডিভিশনের বজবজ শাখায় সারা দিনে যত যাত্রিবাহী ট্রেন এবং মালগাড়ি চলে, তাতে এত অল্প দূরত্বে দু’টি লেভেল ক্রসিং থাকলে যাত্রিবাহী ট্রেন চালানো বন্ধ করে দিতে হবে।

নিউ আলিপুরের দিকে অল্প দূরত্বে রেলের বেশ কয়েকটি ক্রসিং পয়েন্ট রয়েছে। পূর্ব রেলের আধিকারিকদের বক্তব্য, ক্রসিং পয়েন্ট রয়েছে, এমন জায়গায় কোনও অবস্থাতেই লেভেল ক্রসিং নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া ওই রাস্তায় যানবাহনের যে-প্রবল চাপ রয়েছে, তাতে অল্প দূরত্বে গেট বন্ধ করা সম্ভব হবে না। সে-ক্ষেত্রে যান চলাচলের জন্য পথ খুলে দিতে গেলে বজবজ শাখায় রাতে কয়েকটি মালগাড়ি ছাড়া সারা দিনে আর ট্রেন চালানো সম্ভব হবে না বলে জানাচ্ছেন পূর্ব রেলের কর্তারা।

রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছিল, রেল এবং পূর্ত দফতরের আধিকারিকেরা বুধবার যৌথ ভাবে মাঝেরহাট সেতু সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের করবেন। কিন্তু রেলের অভিযোগ, যৌথ পরিদর্শনের কথা তাদের জানানোই হয়নি। এ দিন বেলা ২টো নাগাদ রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের আধিকারিকদের একাংশ নিজেদের মতো করে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। মাপজোক করেন। রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁদের মত বিনিময় করতে দেখা যায়নি বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। অর্থাৎ প্রথম থেকে সমন্বয়ের কথা বলা হলেও বৈঠক বা পরিদর্শন, কোনও ক্ষেত্রেই তার চিহ্ন নেই।

পূর্ত আধিকারিকেরাও এ দিন তাঁদের মতো করে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। পূর্ত দফতরের এক কর্তার দাবি, দু’পক্ষই এলাকা ঘুরে দেখেছে।