বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর মোটর বাইকের পিছনে বসে প্রচারের অভিযোগ উঠল বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সায়ন্তন বসুর বিরুদ্ধে। যদিও বিজেপি প্রার্থীর দাবি, ওই যুবক তাঁদের দলের বসিরহাট জেলার সাধারণ সম্পাদক। অনুপ্রবেশকারী নন, বরং ‘খাঁটি ভারতীয়।’  

মঙ্গলবার প্রচারে বেরিয়ে বসিরহাটের ভেবিয়া চৌমাথার কাছে গাড়ি ছেড়ে মোটর বাইকের পিছনে উঠে পড়েন সায়ন্তন। টাকি হয়ে পৌঁছন সংগ্রামপুর কালীবাড়িতে। তিনি ছিলেন দলের নেতা দুলাল রায়ের বাইকের পিছনে। মন্দিরে পুজো দিয়ে জেলা পার্টি অফিসে যাওয়ার পথেও দুলালের বাইকেই সওয়ার হন সায়ন্ত‌ন। 

এই দুলালকে নিয়েই ঘনিয়েছে বিতর্ক। কে তিনি?

পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক মাস আগে স্বরূপনগরের সীমান্তবর্তী কৈজুড়ির বাসিন্দা দীপঙ্কর চক্রবর্তী নামে জনৈক ব্যক্তি বসিরহাট আদালতকে জানান, বিজেপি নেতা দুলালের বাড়ি বাংলাদেশের সাতক্ষিরা জেলার কলারোয়া থানার ঝাউডাঙা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায়। অবৈধ ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এসে জাল নথি দেখিয়ে বসিরহাটে বসবাস করছেন তিনি। বিষয়টি জেলার পুলিশ সুপারকেও জানানো হয়। আদালতের নির্দেশে পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করছে। পুলিশের দাবি, দুলালের জমা দেওয়া নথি নকল কিনা তা সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছ জানতে চাওয়া হয়েছে। 

বসিরহাটে সোনার দোকান আছে দুলালের। তিনি বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি বসিরহাটের আদি বাসিন্দা। আমি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’’ বিজেপির বসিরহাট জেলা সভাপতি গণেশ ঘোষের দাবি, দুলাল যে ভারতীয়, তার সমস্ত প্রমাণ আছে। দুলালের নাগরিকত্ব নিয়ে যিনি অভিযোগ তুলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দল, এমনটাই দাবি গণেশের। 

দুলাল অনুপ্ররেশকারী কিনা, তা নিয়ে অবশ্য সরাসরি জবাব দেননি সায়ন্তন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ভারত সরকারের স্পষ্ট নির্দেশ আছে, যে, সব হিন্দুরা বাংলাদেশ থেকে এ পারে এসেছেন, তাঁরা এখানে থাকবেন।’’

তা হলে অনুপ্রবেশ আইনের কী হবে? নিরুত্তর বিজেপি প্রার্থী।

দীপঙ্কর স্বরূপনগরের বিজেপি কর্মী। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, দুলাল-সহ তিনজন তাঁর উপরে চড়াও হয়ে মারধর করে। অভিযোগ তুলে না নিলে ‘ফল ভাল হবে না’ বলে হুমকিও দেওয়া হয়। এ কথা বসিরহাট থানায় লিখিত ভাবে জানিয়েছেন দীপঙ্কর। 

জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘‘কী ভাবে ওই ব্যক্তি এ দেশে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখার জন্য ছবি ও যাবতীয় তথ্য নির্বাচন কমিশন ও জেলাশাসককে দেওয়া হয়েছে।’’ অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থার দাবিও তুলেছেন তিনি। কী ভাবে একজন প্রার্থী অনুপ্রবেশকারীকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন, সে প্রশ্নও তোলেন জ্যোতিপ্রিয়।