আইন শৃঙ্খলার উন্নতির লক্ষে পুলিশ জেলা করা হচ্ছে সীমান্ত লাগোয়া বসিরহাটকে। মঙ্গলবার বারাসতের প্রশাসনিক বৈঠকে এসে এই কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যাতে বসিরহাটকে পুলিশ জেলায় রূপান্তর করা যায় সে জন্য কাজ চলছে জোর কদমে। ঘুম নেই প্রশাসনের কর্তাদের।

সম্প্রতি বসিরহাটকে স্বাস্থ্যজেলা ঘোষণা করায় সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল পেয়েছিল এই মহকুমার মানুষ। এবারে বসিরহাটকে পুলিশ জেলা ঘোষণা করায় আইন শৃঙ্খলার উন্নতি হবে ভেবে স্বস্তিতে এলাকার মানুষ। বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ, হেমনগর, হাসনাবাদ, বসিরহাট, বাদুড়িয়া এবং স্বরূপনগরের একটি বড় অংশ সীমান্ত লাগোয়া হওয়ার কারণে এই সব এলাকায় চোরাকারবারি এবং সীমান্ত দুষ্কৃতীদের রমরমা। তা ছাড়া বসিরহাটের ঘোজাডাঙা সীমান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্দর হওয়ায় সেখানকার আইন শৃঙ্খলার বিষয়টি প্রশাসনের কাছে বেশ জরুরি হয়ে উঠেছে। বসিরহাট পুলিশ জেলা হলে মিলবে বাড়তি পুলিশ। তাতে অপরাধ দমনে সুবিধা হবে বলে মনে করছেন জেলা পুলিশকর্তারা। বর্তমানে একমাত্র বসিরহাট থানায় আইসি পদমর্যাদার অফিসার আছেন। এগারোটি থানার মধ্যে হাসনাবাদ থানায় আইসি পদমর্যাদার একজন অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে।

জেলা পুলিশের একটি সূত্র বলছে, বসিরহাট এসডিপিও-র বর্তমান দফতরটি আগামী দিনে জেলা পুলিশ সুপারের বাংলো হচ্ছে। ইছামতীর অপর পার সংগ্রামপুরে পঞ্চায়েত এলাকার একটি ছ’তলা বাড়িতে পুলিশ সুপারের দফতর হচ্ছে। একই বাড়িতে থাকবে দু’জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দফতর। থাকছে তিন জন ডিএসপি-র অফিস। ফলে, এক বাড়িতে গেলেই বিভিন্ন পুলিশকর্তার সঙ্গে দেখা করার সুবিধা মিলবে। একটি এসডিপিও অফিস চলে যাবে মিনাখাঁয়। অন্যটি হচ্ছে বসিরহাটের ঘড়িবাড়ি মোড়ে টাকি রাস্তার ধারে। একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের অধীনে থাকছে বসিরহাট, স্বরূপনগর, মাটিয়া এবং বাদুড়িয়া অর্থাৎ ৪টি থানা। আর একজন পুলিশ সুপার দেখবেন হাসনাবাদ, হিঙ্গলগঞ্জ, হেমনগর উপকূলবর্তী, সন্দেশখালি, ন্যাজাট, মিনাখাঁ এবং হাড়োয়া অর্থাৎ ৭টি থানা এলাকা। বাড়ছে সিআই পদমর্যাদার অফিসারের সংখ্যা। বসিরহাটের আইন শৃঙ্খলার দায়িত্ব তিন জন সিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।