অনেকদিন ধরেই দমকলকেন্দ্রের দাবি ছিল এলাকাবাসীর। মঙ্গলবার অশোকনগরে সেই দমকলকেন্দ্রের উদ্বোধন করলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। স্থানীয় হরিপুর এলাকায় তৈরি হয়েছে ওই কেন্দ্র।

স্থানীয় বাসিন্দারা বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা বহুদিন ধরেই এলাকায় একটি দমকল স্টেশন তৈরি ও পরিষেবা চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অশোকনগরের বিধায়ক ধীমান রায় বলেন, ‘‘২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দমকলকেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন। এক বছরের মধ্যে আমরা পরিকাঠামো তৈরি করে চালু করতে পারলাম।’’

অশোকনগর-কল্যাণগড়ের পুরপ্রধান প্রবোধ সরকার বলেন, ‘‘পুর  এলাকায় কয়েকটি বড় বাজার রয়েছে। কোথাও আগুন লাগলে, প্রথমে হাবড়া থেকে দমকলের ইঞ্জিন আসত। পরবর্তী সময়ে বারাসত, মধ্যমগ্রাম ও ব্যারাকপুর থেকে দমকলের ইঞ্জিন এসে পৌঁছত। ততক্ষণে অবশ্য সব শেষ হয়ে যেত। দমকল পরিষেবা চালু হওয়ায় এই সমস্যা অনেকটাই মিটবে।’’   

দমকল ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিপুর এলাকায় তিন বিঘে জমির উপর দমকলকেন্দ্রটি তৈরি করা হয়েছে। আপাপত সেখানে দু’টি ইঞ্জিন আছে। সঙ্গে থাকছে ৩৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট মই। এ দিন একটি ফোন নম্বরও (০৩২১৬ ২৩৭১০১)  চালু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ ওই নম্বরে ফোন করে আগুন লাগার খবর দিতে পারবেন। দমকলমন্ত্রী বলেন,   ‘‘শীঘ্রই এখানে মোটরবাইকের মাধ্যমে আগুন নেভানোর কাজও শুরু হবে। প্রতিটি বাইকে ১৫ লিটার জল ও আগুন নেভানোর গ্যাস থাকবে।’’ ছোটখাটো আগুন লাগলে দমকলকর্মীরা বাইকে করে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেবেন বলে তিনি জানান।  

গত বছর নভেম্বর মাসে আগুনে ভস্মীভূত হয় অশোকনগরের গুরুত্বপূর্ণ গোলবাজারের কয়েকটি দোকানঘর। এলাকার মানুষ ও ব্যবসায়ীরা প্রথমে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। কিন্তু আগুন এত বেশি ছিল যে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। পরে হাবড়া বারাসত, মধ্যমগ্রাম, কাঁকিনাড়া থেকে দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন পরপর ঘটনাস্থলে এসে সাড়ে চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গোলবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক গুপি মজুমদার বলেন,  ‘‘অশোকনগরে দমকলকেন্দ্র থাকলে ওই দিন ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হত। গত এক বছরে এই বাজারে আটবার আগুন লেগেছে। দমকলকেন্দ্র তৈরি হওয়াতে ব্যবসায়ীরা এখন স্বস্তিতে ব্যবসা করতে পারবেন।’’   

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে অশোকনগর থানা এলাকা  ১৭৪ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে। বিস্তীর্ণ এই এলাকার জন্য এতদিন কোনও দমকলকেন্দ্র ছিল না। ব্যবসায়ীরা জানান, অশোকনগরের পাশেই হাবড়া। কিন্তু হাবড়ায় যশোর রোডের যানজট পেরিয়ে দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যেত। 

এক ব্যবসায়ীর কথায়, ‘‘দোকান বন্ধ করে রাতে বাড়িতে চিন্তায় থাকতে হত।  আগুন লাগলে দেখা ছাড়া কোনও উপায় থাকত না। এখন নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারব।’’