• শান্তশ্রী মজুমদার
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

চেনা মুখ না হলে শব্দবাজি অমিল

Chocolate Crackers
ছবি: কাকদ্বীপের বামুনের মোড়ের কাছে বিক্রি হচ্ছে চকলেট বোমা। নিজস্ব চিত্র
নিঃশব্দে কাজ সারছে শব্দবাজি। 
কাকদ্বীপ মহকুমার বিভিন্ন জায়গা-সহ সুন্দরবন পুলিশ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে শব্দবাজি। পুলিশের নজরদারি থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। নিষিদ্ধ বাজি হিসেবে তা আরও বেশি করে চোরাপথে বিক্রি হচ্ছে। তাই দামও বেশি। পুলিশকর্তারা আরও কড়া হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। 
সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার তথাগত বসু বলেন, ‘‘শব্দবাজির বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চলছে মন্দিরবাজার জোন এবং কাকদ্বীপ জোন থেকে কয়েকশো নিষিদ্ধ বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তিন জনের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।’’ 
৯০ ডেসিবেলের থেকে অনেকটাই বেশি চকলেট বোমার জোগান রয়েছে কাকদ্বীপের বিভিন্ন জায়গায়। কালীপুজোর সময় বেশ কিছু মরসুমি বাজির দোকান চড়া দামে শব্দবাজির ব্যবসা করে। কাকদ্বীপ বামুনের মোড়ের কাছে একটি অস্থায়ী প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকানে বুধবার গিয়ে চকলেট বোমের হদিস করতেই সন্দেহের চোখে তাকালেন দোকানি। স্থানীয় না হলে চট করে চকলেট বোমা নেই বলেই জানিয়ে দেওয়া হয়। 
কিন্তু খুব প্রয়োজন বলে দাবি করলে এ দিক ও দিক তাকিয়ে সাবধানে এক প্যাকেট বের করে নিয়ে আসেন তিনি। একশো বাজির দাম ১৯০-২২০ টাকার মধ্যে। এলাকা কাঁপানোর মতো আওয়াজ হবে। দরাদরি করলে হয় তো আরও একটু নেমে আসবে। কিন্তু তা বিশেষ চেনা লোক ছাড়া দেওয়া হয় না বলে জানিয়ে দিলেন বাজির দোকানি। তিনি বলেন, ‘‘কিছু গ্রাহক বরাবরই এই বাজিটাই চান। তাই বাজির দোকান দিলে তাঁদের জন্য এই চকলেট বোমা আনতেই হয়।’’
কিন্তু এই বাজি তো নিষিদ্ধ জিজ্ঞাসা করাতে বললেন, ‘‘একটু বেশি দাম নিই। তাই কম করে মাল তুলি।’’ 
গত এক সপ্তাহে কাকদ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় শব্দবাজির বিরুদ্ধে অভিযান চলেছে। কিন্তু অনেকগুলি জায়গায় অভিযান চালিয়ে মাত্র কয়েকটি জায়গা থেকেই শব্দবাজি পেয়েছে পুলিশ। মুদিখানার দোকান, চাটাই বিক্রির দোকান, এমনকী পান বিড়ির দোকানের আড়ালেও চলছে শব্দবাজি বিক্রি। 
সুন্দরবন‌ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিন চার দিনে হারউড পয়েন্ট উপকূল থানা এলাকায় বাজেয়াপ্ত হয়েছে ২০০ শব্দবাজি। কাকদ্বীপ থানা এলাকাতেও চলেছে অভিযান। বেশ কিছু বাজি ধরা হয়েছে। নামখানা থানার কাছেই বিক্রি হচ্ছিল বাজি। পুলিশ প্রায় পাঁচ কেজি বাজি বাজেয়াপ্ত করেছে। ঢোলাহাট থানা এলাকা থেকেও প্রায় ৮ কেজি বাজি ধরা হয়েছে। 
কী ভাবে ঢুকছে শব্দবাজি? 
জানা গিয়েছে, চম্পাহাটি, মেটিয়াবুরুজ, রায়দিঘি, ক্যানিংয়ের মতো বেশ কিছু এলাকা থেকে সাজানো গোছানো ব্যাগে ট্রেন ও বাসে করে কাকদ্বীপে আনা হচ্ছে এই বাজি। পথে কোনও বড় বিস্ফোরণ ঘটলে তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন