জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একের পর এক মৃত্যু ঘটছে বসিরহাট মহকুমার নানা প্রান্তেও। সংখ্যাটা প্রায় ৩০ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় ভাবে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে অনেকেরই রক্তে ডেঙ্গির জীবাণুও মিলেছে। তবু নড়ে বসছে না প্রশাসন, স্বাস্থ্য দফতর, অভিযোগ মানুষজনের।

এই পরিস্থিতিতে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে প্রতিদিন। বেড পাওয়া দুষ্কর। মেঝেতে পর্যন্ত জায়গা মিলছে না। হাসপাতালের সুপার শ্যামল হালদার বদরতলায় নতুন এবং পুরনো দু’টি হাসপাতাল সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন। বললেন, ‘‘গত তিন মাসে হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ জ্বরের চিকিৎসার জন্য এসেছেন। গড়ে প্রতি দিন ৫০ জনের বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন। অথচ হাসপাতালে পুরুষ বিভাগে বেড ৪৮টি। মহিলা বিভাগে ৩৮টি।’’ দিনরাত মিলিয়ে ৬ জন চিকিৎসক রোগী দেখে চলেছেন। বর্তমানে প্রায় দু’শো রোগী জ্বর নিয়ে ভর্তি হাসপাতালে। তবে অসুস্থদের কেউ ডেঙ্গির ফলে মারা যাননি বলে দাবি করেছেন সুপার। 

মহকুমার অন্যান্য হাসপাতালগুলির চিত্র প্রায় একই।

বাদুড়িয়ায় ঘরে ঘরে জ্বর। সেখানকার বিধায়ক কাজি আব্দুর রহিম দিলু বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষে ডেঙ্গির কথা স্বীকার না করায় মানুষ সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। মারা যাচ্ছেন।’’

শুক্রবার বসিরহাট জেলা হাসপাতালে দেখা গেল, হাতে স্যালাইনের চ্যানেল করা কেউ কেউ মেঝেতে কম্বল পেতে শুয়ে কাঁপছেন। একেকটি বেডে তিনজন করে শুয়ে আছেন। স্বরূপনগর, হাসনাবাদ, বসিরহাট ১ ও ২ ব্লক, হিঙ্গলগঞ্জেও জ্বর ছড়িয়েছে। চিকিৎসা শিবির প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে অভিযোগ উঠছে নানা দিক থেকে। হাসপাতালেও ভিড় সামলাতে প্রাণ ওষ্ঠাগত চিকিৎসক, নার্স স্বাস্থ্যকর্মীদের। বসিরহাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জ্বরে আক্রান্তের আত্মীয় কমল বাছাড়, মানসী দাস, ফতেমা বিবিরা বলেন, ‘‘এলাকায় বহু মানুষ জ্বরে আক্রান্ত। অনেকেরই রক্তে ডেঙ্গির জীবাণু মিলেছে। হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে না। তাই হাজার হাজার টাকা খরচ করে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। অথচ, সেখানের রিপোর্টে ডেঙ্গি মিললেও হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তা মানছেন না।’’ এ বিষয়ে সুপার জানান, বিনা খরচে রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে জ্বর নিয়ে নানা বিভ্রান্তির ফলে যে ভাবে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে, তাতে  বড় কোনও অঘটনের আশঙ্কায় চিন্তিত প্রশাসন।