ট্রাকের সঙ্গে দু’টি বাইকের  ধাক্কায় মৃত্যু হল দুই যুবকের। রবিবার রাত ১১টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে হাবড়া থানার গণদীপায়নের কাছে যশোর রোডে। জখম হয়েছেন আরও তিন জন। পুলিশ জানিয়েছে, মারা গিয়েছেন সত্যজিৎ বিশ্বাস (২৪) ও শান্তনু ঘোষ (২১) নামে দুই যুবক। বাড়ি গাইঘাটা নটগ্রাম এলাকায়। 

দুর্ঘটনায় জখম গৌতম পাল, হীরক পাল ও শুভ প্রামাণিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কলকাতার আরজিকরে ও বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

পথ দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে এই এলাকায়। কখনও বাইকের ধাক্কায় পথচারীরা মারা যাচ্ছেন, কখনও ট্রাকের ধাক্কায় পথচারীরা এবং বাইক চালকেরা মারা যাচ্ছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন ৬ জন। জখম গোটা দশেক মানুষ। যশোর রোড বা ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়ক, হাবড়া-বসিরহাট সড়ক এবং হাবড়া-মগড়া সড়কে (গৌড়বঙ্গ রোড) মূলত দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে।  

সম্প্রতি রাজ্য ট্র্যাফিক পুলিশ সমীক্ষা করে রাজ্যের চল্লিশটি থানাকে দুর্ঘটনাপ্রবণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি বলে চিহ্নিত করেছে। তার মধ্যে হাবড়া অন্যতম। এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সড়কগুলি কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়ক পথে যাতায়াত করার সময়ে তাঁরা আতঙ্কে থাকছেন। 

পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনার পরে উত্তেজিত জনতা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান অনেক সময়ে। বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবি তোলেন। পুলিশ গিয়ে অবরোধকারীদের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিছু স্থায়ী পদক্ষেপ কিছুই করা হয় না বলে অভিযোগ। ফলে দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।

হাবড়া-মগড়া সড়ক সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সড়ক দিয়ে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করে। তার মধ্যেই কিছু যুবকের বাইক রেস চলে। দিন কয়েক আগে ওই বাইক রেসে বলি হয়েছেন এক বৃদ্ধ। যান চালকদের মধ্যে রেষারেষির ফলেও দুর্ঘটনা ঘটছে।

অটোয় অতিরিক্ত যাত্রী তোলার অভিযোগ আছে। চালকের দু’পাশেও যাত্রী বসানো হয়। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে অটো চালক বেপরোয়া গতিতে চলতে গিয়ে  সামনে কোনও গাড়ি চলে এলে চালকেরা অনেক সময়েই অটো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।

পুলিশ জানিয়েছে, হাবড়া শহরে যশোর রোডের যানজটে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকেন যান চালকেরা। যানজট থেকে বেরিয়ে ফাঁকা রাস্তায় গাড়ির গতি খুব বাড়িয়ে দেন চালকেরা ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।  হাবড়ার সড়কগুলো সংস্কার করে ঝাঁ চকচকে করা হয়েছে। ভাল রাস্তায় বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন যান চালকেরা। সড়কের পাশে ইমারতি মালপত্র ফেলে রাখা হচ্ছে। বেআইনি ভাবে রাস্তায় চলছে অসংখ্য অটো।  

পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে গার্ডরেল স্পিড ব্রেকার বসানো হয়েছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে যান নিয়ন্ত্রণ করতে সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়েছে। পথচারীদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।’’