স্ত্রীকে ফোন করে তিনি জানিয়েছিলেন, বৃষ্টি হচ্ছে বলে কাজে না বেরিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন। কিছু পরেই পুকুরে স্নান করতে নামবেন। রাতভর বৃষ্টিতে টইটম্বুর সেই পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়েই তলিয়ে গেলেন ওই ব্যক্তি।

শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে খড়দহের শান্তিনগর এলাকায়। পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তির নাম বিল্টু দাস (৪২)। তিনি এলাকারই বাসিন্দা। এ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই পুকুরে স্পিড বোট ও ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চালানো হলেও বিল্টুর সন্ধান মেলেনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, পানিহাটি পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগরে ওই বড় পুকুরের পাশেই থাকেন পেশায় ভ্যানচালক বিল্টু। পুকুর ও বাড়ির মাঝে রয়েছে বাঁধানো রাস্তা। প্রবল বৃষ্টিতে সেই রাস্তা ও পুকুর এক হয়ে গিয়েছিল। এ দিন সকাল ১০টা নাগাদ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বসেছিলেন ওই ব্যক্তি। সেখান থেকেই তিনি বরাহনগরে পরিচারিকার কাজ করা স্ত্রী চন্দনা দাসকে ফোন করেন। কয়েক বছর ধরে ছেলেমেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকেন চন্দনা। 

চন্দনা এ দিন বলেন, ‘‘উনি খুব নেশা করেন বলেই আমি আলাদা থাকি। তবে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এ দিন ফোন করে ছেলে ও বৌমার কথা জিজ্ঞাসা করলেন। তার পরে বললেন, আড্ডা শেষ করে স্নান করতে যাবেন।’’ এর কিছু ক্ষণ পরেই চন্দনা খবর পান, তাঁর স্বামী পুকুরে তলিয়ে গিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক জন প্রতিবেশী বিল্টুকে সাঁতরে মাঝ পুকুর পর্যন্ত যেতে দেখেছিলেন। তার পরে আচমকাই তিনি তলিয়ে যান। স্থানীয় যুবকেরা পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি করলেও বিল্টুকে পাওয়া যায়নি। 

খবর পেয়ে খড়দহ থানার পুলিশ এসে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে জলে নামায়। কিন্তু তারাও দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে বিল্টুকে খুঁজে পায়নি। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, ওই ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পুকুরে নেমেছিলেন। সেই কারণে সাঁতার জানলেও তলিয়ে যান তিনি।