দু’টি ব্যাগে মোট প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা-সহ এক যাত্রীকে গ্রেফতার করল দুর্গাপুরে রেল পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে দুর্গাপুর স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ধৃতকে জেরা করছে পুলিশ।

রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম সুরেশপ্রসাদ বর্মণ। তিনি বারাণসীর বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক ভাবে তাঁকে জেরা করে জানা গিয়েছে, তিনি বারাণসী থেকে প্রথমে ধানবাদ আসেন। সেখান থেকে আর একটি ট্রেন ধরে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ দুর্গাপুর স্টেশনে নামেন। এখান থেকে ট্রেন ধরে হাওড়া যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। দুর্গাপুর স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে তিনি বর্ধমানগামী লোকাল ট্রেন ধরার জন্য ঘোরাফেরা করেছিলেন। তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় রেল পুলিশ তাঁকে আটক করে স্টেশনের ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। কথাবার্তায় অসঙ্গতি মেলায় তাঁর কাঁধের ব্যাগ ও ট্রলি ব্যাগ খোলে পুলিশ। তখনই দেখা যায়, ব্যাগ দু’টিতে থরে-থরে সাজানো রয়েছে টাকার নোট।

পুলিশ জানায়, প্রায় সবই পাঁচশো, অল্প কিছু দু’হাজার টাকার নোট ছিল ওই দু’টি ব্যাগে। এক জন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে রেল পুলিশ ছাড়াও তাঁকে জেরা করে পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ। প্রয়োজন মতো ভিডিয়ো রেকর্ডিংও করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। ঘটনার খবর পেয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে দুর্গাপুরের নোডাল অফিসার (ফ্লাইং স্কোয়াড) অরুণকুমার চৌধুরী এসে পৌঁছন। তিনি জানান, তাঁর পর্যবেক্ষণ মহকুমা রিটার্নিং অফিসারকে জানাবেন।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জেরায় ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি সোনা ব্যবসায়ী। বারাণসীতে তাঁর দোকান রয়েছে। এই টাকা নিয়ে কলকাতার বড়বাজারে একটি দোকানে সোনা কিনতে যাচ্ছিলেন। কর বাঁচাতেই নগদ টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন ধৃত, দাবি পুলিশের। কিন্তু এই টাকার কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

সম্প্রতি আসানসোল স্টেশনে প্রায় এক কোটি টাকা-সহ গ্রেফতার করা হয় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক এবং দিল্লির এক বিজেপি কর্মীকে। সিআইডি তার তদন্তে নেমেছে। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুরের এক বিজেপি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রেল পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসানসোল স্টেশনের ঘটনাটির পর থেকেই দুর্গাপুরে নজরদারি বাড়ানো হয়। তবে এ দিন ধৃত ব্যক্তির সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ এখনও পাওয়া যায়নি বলে দাবি পুলিশের।