জলের দাবিতে প্রায় দু’ঘণ্টা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার সকালে ঘটনাটি ঘটে, জামুড়িয়া-রানিগঞ্জ রোডের জামুড়িয়ার মণ্ডলপুর বড়তলা কোড়াপাড়ায়। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাখি কর্মকার। ১০টা নাগাদ পুরসভার তরফে ট্যাঙ্কারে করে জল পাঠানো হলে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোড়াপাড়ার একটিমাত্র টাইম কল রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন তাতে জল পড়ে না। সাত নম্বর কালীমন্দিরপাড়ায় তিনটি টাইম কল রয়েছে। সেখান থেকেই তাঁরা জল নিয়ে আসতেন। কিন্তু সেখানেও সাত দিন আগে একটি কলে জল পড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাকি দু’টিতে ধীর গতিতে জল পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জীতেন কোড়া, বেবী কোড়া, পূজা কোড়ারা জানান, এই পাড়ায় ৬০টি পরিবারের বাস। প্রতি বছর পুরসভা ট্যাঙ্কারে করে জল পাঠাত। তাঁদের ক্ষোভ, এ বছর এখনও পর্যন্ত ট্যাঙ্কারে করে জল পাঠায়নি পুরসভা। গরম পড়তেই পুকুর শুকিয়ে যাচ্ছে। নেমে যাচ্ছে কুয়োর জলস্তরও। এই অবস্থায় প্রায় ৪০০ মিটার দূরে কেশবডাঙা থেকে গিয়ে জল বয়ে আনতে হচ্ছে। জল আনতে গিয়ে বাড়ির কাজে দেরি হচ্ছে। সময়ে রান্না না হওয়ায় অনেক সময় ছেলে-মেয়েরা খেয়ে স্কুলে যেতে পারে না বলে অভিযোগ তাঁদের। বাসিন্দাদের দাবি, ট্যাঙ্কারে নিয়মিত জল সরবরাহ করতে হবে। না হলে সমস্যা মিটবে না।

এ দিন সকাল ৮টা নাগাদ কলসি, বালতি নিয়ে বিক্ষোভ-অবরোধ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হঠাৎ অবরোধ শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। বেশকিছু পড়ুয়াকে হেঁটে স্কুলে পৌঁছতে হয়। মণ্ডলপুর বড়তলা কোড়াপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। কিন্তু অবরোধ হচ্ছে জেনেও স্থানীয় কাউন্সিলর না এসে সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সির রাখি কর্মকার এলেন কেন? রাখিদেবী বলেন, ‘‘স্থানীয় কাউন্সিলর না থাকায় পুরকর্তৃপক্ষ আমাকে এলাকায় গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।’’ তিনি জানান, প্রতিদিন একটি ট্যাঙ্কারে করে জল ওই এলাকায় পাঠানো হবে।

এ প্রসঙ্গে আসানসোল পুরসভার মেয়রপারিষদ (জল) পূর্ণশশী রায় বলেন, ‘‘এই এলাকায় জল সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর থেকে বেনালি জলাধারে জল পাঠানো হয়। আসানসোলের কালাঝরিয়া থেকে বেনালিতে জল পাঠানো হয়। তার পরে সেখান থেকে পুরসভা এই এলাকায় জল সরবরাহ করে।’’

পূর্ণশশীবাবু আরও জানিয়েছেন, এর পরেও সমস্যা মিটছে না বলে জামুড়িয়ায় দু’টি নতুন জলপ্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে।