হুগলি জেলার গঙ্গাপাড়ের গুরুত্বপূর্ণ দুই শহর উত্তরপাড়া এবং শ্রীরামপুরে এখন নিকাশি নালা ঢেকে ফুটপাত তৈরির কাজ চলছে। শ্রীরামপুর পুর-এলাকায় সেই কাজ অনেকাংশে শেষ হয়ে গিয়েছে। তুলনায় উত্তরপাড়া পুরসভার কাজে গতি নেই। কিন্তু স্থানীয় মানুষের প্রশ্ন, নালা তো ঢাকা হচ্ছে। শহরে প্লাস্টিক বন্ধ কে করবে? 

তার উপর পুর এলাকায় পুকুর বুজে গিয়েছে বেশিরভাগ। নিকাশি নালা ঝকঝকে করে উপরে টাইলস্ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু একটু বৃষ্টিতেই সেই ফুটপাতই ভাসছে নর্দমা উপচানো জলে। শ্রীরামপুরের স্টেশন রোড, এনএস অ্যাভিনিউ, ঝিল বাগান-সহ সর্বত্র কমবেশি একই পরিস্থিতি। শ্রীরামপুর স্টেশনের আন্ডারপাশের পরিস্থিতি আরও খারাপ। স্টেশনের আন্ডারপাস এড়িয়ে কেউ যদি রায়ল্যান্ড রোড ধরে রেলের বিকল্প অন্য একটি আন্ডারপাস দিয়ে যেতে চান, সেখানে পরিস্থিতি আরও খারাপ। জমা জল অনেক সময়েই সেখানে হাঁটু ছাড়ায়।

পুরস্কার পাওয়া উত্তরপাড়া পুরসভার পরিস্থিতিও খারাপ। পুর কর্তৃপক্ষ নর্দমা ঢেকে দিচ্ছেন সরকারি প্রকল্পে। কিন্তু সেখানে অবাধে নতুন গুমটি বসছে। সেই ফুটপাত ধরে মানুষ চলবে কী করে? এমনকি স্কুলের সামনের ফুটপাতও চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের খপ্পরে। 

তার উপর সম্প্রতি পুর কর্তৃপক্ষ ফুটপাতে দখলদারি ঠেকাতে উপায় বাতলেছেন। গাছের টব বসিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু সেই গাছ একে রক্ষনাবেক্ষণ হয় না। তার উপর গাছের টবের ঠেলায় মানুষ ফুটপাত ধরে চলাচল করতে পারেন না। এক শ্রেণির গাড়ির মালিকরা নতুন ওই ফুটপাতকে গ্যারাজ হিসেবে ব্যবহার করছেন। মানুষ চাইলেও ওই ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারেন না।

তার উপর ফুটপাতে নিকাশির কোনও ব্যবস্থা নেই। পরিকল্পনাহীনভাবে কোনও কোথাও একটি করে গর্ত করে দেওয়া হয়েছে ফুটপাতের পাশে। যেখানে পড়ে মানুষের পাঁ ভাঙে। পুর প্রতিনিধিদের অবশ্য যুক্তি, ‘‘মানুষ ফুটপাত ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি করলে পুরসভা সহায়তা করবে।’’ 

তার উপর উত্তরপাড়ায় রয়েছে প্লাস্টিকের দাপট। সব মিলিয়ে নিকাশি ব্যবস্থাই পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশী কর্মী উত্তরপাড়ার বাসিন্দা শশাঙ্ক কর বলেন, ‘‘সারা ভারতে উত্তরপাড়া মডেল সিটি। বর্জ্য দিয়ে সার তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এখানে প্লাস্টিকের এই ব্যবহার রুখবে কে? সেটা দেখার কে আছে?’’  

উত্তরপাড়ার পুরপ্রধান দিলীপ যাদব অবশ্য বলেন, ‘‘আমরা প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে পথনাটিকা করেছি। বাজারে বাজারে জরিমানাও চালু করেছিলাম। পুর এলাকায় আমরা ফের পথে নামব প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে। মানুষের সচেতনতাও জরুরি।’’ 

বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা ও প্লাস্টিকের প্রতিবাদে বুধবার সিপিএমের শ্রীরামপুরের পূর্ব ও পশ্চিম এরিয়া কমিটি পুর কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি দেন। সিপিএমের অভিযোগ, শহরের পশ্চিম ও পূর্ব পারের বিভিন্ন ওর্য়াডে নিকাশি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত বহুদিন ধরে। পুরসভার ৪, ৫, ৬, ২৭, ২৮—সহ বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল। পুর কর্তৃপক্ষ উদাসীন। শহরের সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টও ঠিক নয়। তার ফলে নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। 

শ্রীরামপুর পূর্ব ও পশ্চিম এরিয়া কমিটির পক্ষে মিঠুন চক্রবর্তী ও পার্থপ্রতিম ঘোষ বলেন, ‘‘শহরের নিকাশি-সহ সব ব্যবস্থাই বেহাল। হরিজন বস্তির পরিস্থিতি খুব খারাপ। যেটুকু কাজ হয় তাও আবার প্রতিটি ওয়ার্ডে কাজের কোনও সমতা নেই।’’  পুরপ্রধান অমিয় মুখোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ‘‘আমরা চলতি সপ্তাহেই বৈঠকে শহরের প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধান্ত নেব।’’