তৃণমূলের নেতা ও জন প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কাটমানি ও তোলাবাজির অবিযোগ তুলে এ বার আলিপুরদুয়ারে আন্দোলনে নামল বিজেপি৷ কাটমানি ও তোলাবাজির টাকা ফেরতের দাবি তুলে শুক্রবার দলের তরফে পররপাড় গ্রাম পঞ্চায়েত দফতরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। কাটমানি ও তোলাবাজিতে যুক্ত তৃণমূল নেতারা টাকা ফেরত না দিলে খুব শীঘ্রই তাদের বাড়ি ঘেরাওয়ের হুমকি দিতে শুরু করেছেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব৷ তৃণমূলের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করতেই এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তুলছে বিজেপি।

যাঁরা কাটমানি নিয়েছেন, তাঁরা তা ফেরত দিন— মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পরই শোরগোল শুরু হয় তৃণমূলে৷ যার প্রভাব পড়ে আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূলের অন্দরেও। দলের ভিতর থেকেই কাটমানি ও তোলাবাজিতে যুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও টাকা ফেরতের দাবি ওঠে৷ কাটমানি ও তোলাবাজিতে যুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দলের জেলা নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নালিশ জানানোরও হুমকি দেওয়া হয়।

বিজেপির আলিপুরদুয়ারের নেতারাও দাবি করেন, তাঁরাও কাটমানি ও তোলাবাজিতে যুক্ত তৃণমূলের নেতাদের চিহ্নিত করতে দলের মণ্ডল সভাপতিদের নির্দেশ দিয়েছেন৷ তবে তার মধ্যেই তাঁরা রাস্তায় নামারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কাটমানি ও তোলাবাজির ঘটনায় অভিযুক্ত নেতারা যাতে দ্রুত টাকা ফেরত দেন সেই দাবিতে শুক্রবার পররপাড় পঞ্চায়েত অভিযান করে বিজেপি। পুলিশ পঞ্চায়েতের গেটের সামনেই আন্দোলনকারীদের আটকে দেয়৷ এর পর পঞ্চায়েত দফতর ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। পরে গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্তাদের কাছে দুর্নীতি-সহ এলাকার নানা সমস্যা নিয়ে একটি স্মারকলিপিও জমা দেন তাঁরা৷

যুব মোর্চার জেলা সভাপতি প্রভাতকুমার সরকারের অভিযোগ, “এলাকার তৃণমূলের অনেক নেতাই কাটমানি ও তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত। আমরা সাত দিন সময় দিয়েছি৷” বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত রায় বলেন, ‘‘টাকা ফেরত না দিলে খুব শীঘ্রি তাদের বাড়ি ঘেরাও করবেন আমাদের দলের কর্মী-সমর্থকরা৷’’ তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার-১ ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জন দে পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, “আমাদের দলের কোনও নেতা কাটমানি ও তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত নেই৷ বিজেপি মিথ্যা অভিযোগ তুলে অশান্তির চেষ্টা করছে৷’’