ফের ‘ভুয়ো’ চিকিৎসকের খোঁজ মিলল শিলিগুড়ি শহরে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা জানায়, অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম সুদীপ্ত সর্দার। তাঁর বাড়ি বারুইপুরের উকিলপাড়া এলাকায়। 

দু’জনের নাম-পদবি একই। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অন্য চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে ধৃত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ঘোঘোমালি এলাকার একটি ওষুধের দোকান-সহ শিলিগুড়ি শহরে কয়েক মাস ধরে তিনি একাধিক জায়গায় চেম্বারে বসছিলেন বলে অভিযোগ। তিনি জেনারেল ফিজিশিয়ান এবং এন্ডোক্রিনলজিস্ট হিসেবে নিজেকে দাবি করেন। অভিযোগ, তাঁর ব্যবহার করা রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি ৭২৬৮৫। ওই রেজিস্ট্রেশন নম্বরের আসল মালিক যিনি তিনি মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে রঘুনাথগঞ্জ-১ ব্লকে বাড়ালা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত। তিনি বিষয়টি জানতে পেরে উদ্বিগ্ন। পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ শুরু করেছেন। শিলিগুড়ির ঘোঘোমালি এলাকার একটি ওষুধের দোকানে চেম্বারে বসেন ওই ভুয়ো চিকিৎসক। তাঁরা শনিবার ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওষুধের দোকানের অন্যতম মালিকপক্ষ জেলা কংগ্রেসের নেতা সুবীন ভৌমিক বলেন, ‘‘ওষুধ কোম্পানির এক পরিচিত ব্যক্তি ওই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে বসানোর জন্য বলেছিল। এই অভিযোগে আমরা সকলেই উদ্বিগ্ন। পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি।’’ 

একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ স্বীকার করে অভিযুক্ত বলেন, ‘‘আমি ২০১১ সালে কর্নাটক মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করি। তবে রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাই ২০১৫ সালে। কর্নাটক থেকে পাশ করা বলে তার পাশে রেজিস্ট্রেশন নম্বরের পাশে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ লিখি না। একই রেজিস্ট্রেশন নম্বরে ভিন্ রাজ্যের অন্য চিকিৎসকও থাকতে পারেন।’’ তবে একই রেজিস্ট্রেশন নম্বরে একাধিক চিকিৎসক এমসিআইয়ের সাইটে থাকলেও এই চিকিৎসকের নাম মেলেনি। অভিযুক্ত বলেন, ‘‘আমায় সময় দিন। বাড়িতে রয়েছে। সময় দিলে তা দেখাতে পারব।’’ 

মুর্শিদাবাদে কর্মরত চিকিৎসক সুদীপ্ত সর্দার বলেন, ‘‘আমার নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে ওই চিকিৎসক ব্যবসা ফেঁদেছে। পুলিশে শীঘ্রই অভিযোগ জানাব।’’ শহরে এ ধরনের ভুয়ো চিকিৎসক নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য দফতর অন্ধকারে। স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, শংসাপত্র দেখাতে পারেননি অভিযুক্ত চিকিৎসক।