• নমিতেশ ঘোষ
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নাবালিকা বিয়ে রুখে নারী দিবসের মুখ দুই ছাত্রী

Girl
সুস্মিতা (বাঁ দিকে) ও রুবাইয়া। নিজস্ব িচত্র

Advertisement

কারও পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল পরিবার। কাউকে সইতে হয়েছে চোখরাঙানি। তবুও হার মানেননি ওঁরা। এক এক করে অন্তত ২০ জন নাবালিকার বিয়ে রুখে দিয়ে কোচবিহারে সবার নজর কেড়েছে দুই ছাত্রী। শুক্রবার, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ওই দুই ছাত্রীকেই কুর্নিশ জানাচ্ছেন প্রশাসনের কর্তারা।

ওই দুই ছাত্রীর একজন সুস্মিতা শর্মা এ বারে উচ্চ মাধ্যমিক দিচ্ছেন। আরেকজন রুবাইয়া পারভিন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। শুধু নাবালিকা বিয়ে নয়, স্কুল ছুটদেরও ঘরে ফেরাতে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ান ওঁরা। যাদের নিয়ে গর্ব করেন খোদ কোচবিহারের জেলাশাসক কৌশিক সাহা। তাঁর কথায়, “বিশ্ব নারী দিবসে ওঁদের কুর্নিশ জানাই। এমন ভাবেই ঘরে ঘরে মেয়েরা সচেতনতার আলো নিয়ে আসুক। এমন ভাবেই সমাজের অন্ধকার দূর করতে ওঁরা কাজ করুন, তাই চাই।”

কোচবিহারের সুটকাবাড়িতে বাড়ি রুবাইয়ার। কোচবিহার মহিলা মহাবিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্রী রুবাইয়া জানান, জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই তিনি দেখেছেন, প্রতিবেশী অনেক মেয়েকেই খুব অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পাশ করার পরে তাঁর অনেক বান্ধবীরও বিয়ে হয়ে যায়। যা দেখে মনে কষ্ট হলেও কিছু করতে উঠতে পারছিলেন না তিনি। একদিন তাঁর বাড়ির সামনে একটি অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে এমনই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তা শুনেই রুবাইয়া যান সেখানে। তার পর থেকেই শুরু হয় তাঁর কাজ। ওই সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই কাজ করেন তিনি। পরিচয় হয় প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গেও। তাঁর কথায়, “আমি প্রচার করতে শুরু করি। আমাকে অনেকেই নাবালিকা বিয়ের খবর দিতেও শুরু করে। একদিন প্রতিবেশী এক নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করে দিই। প্রশাসন ও ওই সংগঠনের কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওঁদের বাড়ি যাই।” রুবাইয়া জানান, প্রথমে তাঁর বাড়ির কেউই বিষয়টি মেনে নিচ্ছিলেন না। তাঁর কথায়, ‘‘বাবা বকাবকি করেন। তার পরেও আমি পিছু হঠিনি। এখন দেখছি সবাই আমার পাশে দাঁড়িয়েছে।” গত এক বছরে সাতটি বিয়ে বন্ধ করেছেন রুবাইয়া। গ্রামের মেয়েদের নিয়ে ‘সবলা বাহিনী’ গড়ে তুলেছেন তিনি।

আরেক লড়াকু নারী হলেন সুস্মিতা। তাঁর বাড়ি জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম কালজানিতে। কালজানি হাইস্কুল থেকেই এ বারে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন। ওই গ্রামেও নাবালিকা বিয়ের ঘটনা আকছার ঘটে। তা নিয়ে সুস্মিতাদের স্কুলে আলোচনা হয়। কন্যাশ্রী সঙ্ঘের মাধ্যমে বছর দুয়েক আগে নাবালিকা বিয়ে বন্ধে প্রচার শুরু করা হয়। স্কুলে বরাবর ওই বিষয় নিয়ে সরব হতেন সুস্মিতা। তাঁকেই সঙ্ঘের ‘ক্যাপ্টেন’ করা হয়। ছুটির পরে বা কখনও টিফিন পিরিয়ডে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন  তাঁরা। কার বিয়ে হচ্ছে, পাত্রীর বয়স কত সে সব তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়। তখনই তাঁরা জানতে পারেন, কেউ স্কুলে পড়লেও তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। কেউ আবার প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছে অল্প বয়সেই। স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে সুস্মিতার নেতৃত্বে কন্যাশ্রী সঙ্ঘ হাজির হত সে সব বাড়িতে। তার পর বন্ধুর মতো চলত কাউন্সেলিং। সুস্মিতা বলেন, “১৬টি নাবালিকা বিয়ে আমরা বন্ধ করতে পেরেছি। সবাই বুঝেছে। কেউ কেউ ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিল। আমরা না পিছিয়ে তাঁদের বলেছি এই ছোট্ট বয়সে বিয়ে হলে ক্ষতি সবার।” ওই স্কুলের শিক্ষক সুরজ ওরাওঁ বলেন, “আমরা খুব খুশি হয়েছি সুস্মিতাদের লড়াই দেখে।” কোচবিহারের কন্যাশ্রী প্রকল্পের আধকারিক তমোজিৎ চক্রবর্তী বলেন, “এমন ভাবে ছাত্রীরা রুখে দাঁড়ানোয় আমরা খুশি।”

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন