বোলে বোলান

ভোটের সুরে

পরনে সাদা ধুতি আর গেঞ্জি, রঙিন উত্তরীয়, খালি পায়ে জড়ানো ঘুঙুর। জনা দশেকের একটা দল। কারও গলায় ঢোল, কারও হাতে কাঁসি, কারও খঞ্জনি। ‘শুনুন শুনুন বঙ্গবাসী, শুনুন দিয়া মন/ ওগো এই আসরে ভোটের কথা করিব বর্ণন/ ভোটের বাদ্যি বেজে গেল বাংলার ঘরে ঘরে/ কত না তারকার ছড়াছড়ি, বাংলার দ্বারে দ্বারে/ তারকাদের ছড়াছড়ি দিদির দলে হল/ তাই না দেখে বিরোধীরাও থাকতে না পারিল।’ মূল গায়ক এই অবধি গাইতেই ধুয়ো ‘ওগো নামী দামী গায়ক-সহ জাদুকরকেও নিল, ওগো তারকাদের নিল।’ সজোরে বেজে উঠল ঢোল কাঁসি খঞ্জনি। চারপাশে গোল করে ঘিরে থাকা শ্রোতারা হইহই করে উঠলেন, ‘বলো ভাই শিবনিবাসের বুড়োশিব দেবাদিদেব মহাদেব’।

নদিয়ার নিজস্ব লোকগান বোলান এ বার ভোটের বোলে এমনই রঙিন। ফসলহীন চৈত্রের অলস অবসর কাটাতে সেই কবে চাষিরা গলায় তুলে নিয়েছিলেন বোলান। ধুলো মাখা ফাটা পায়ে ঘুঙুর জড়িয়ে দল বেঁধে ঢোল-কাঁসি নিয়ে নেমেছিলেন পথে। অবসরের সেই গান ক্রমে বছর শেষের ‘চোত গাজনের’ প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠল কৃষ্ণগঞ্জ, হাঁসখালি বা কালীনগর, নাকাশিপাড়া, তেহট্টের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। গাজনের সন্ন্যাসী বা ‘গাজুনে বালার’ গান, তাই নাম বোলান, স্থানীয় লোকেরা বলেন বুলান।

শুরুতে পুরাণ থেকে রামায়ণ, মহাভারত হয়ে কৃষ্ণলীলা, চৈতন্যলীলা এই সবই ছিল বিষয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে বিনোদনের বোলান হয়েছে উঠেছে প্রতিবাদের গান, জাগরণের গান। গ্রাম্য জীবনের অভাব-অভিযোগ বা অবিচারের কথা থেকে শুরু করে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম সবই উঠে এসেছে। বুদ্ধিশ্বর ঘোষ, নিমাই ঘোষ, প্রাণদা ঘোষ, স্বপন ঘোষের মতো চার পুরুষের গায়কেরা জানিয়ে দেন, “কাউকে খুশি করার গান গাই না আমরা। তাই আমাদের কথাও কেউ সে ভাবে ভাবে না।”

২০১১-র চৈত্রে বোলানে ছিল পরিবর্তনের বোল। সেবার লেখা হয়েছিল‘ভোট, ভোট, ভোট এল বঙ্গে/ ওগো পরিবর্তনের হাওয়া নিয়ে এল সঙ্গে/ বঙ্গবাসীর মুখে-মুখে একটিই কথা তাই/ খুনি বাম সরকারের আমরা পরিবর্তন চাই।’ পালাবদলের আগে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল এই গান। কিন্তু ২০১৩-র চৈত্রে বদলে গিয়েছিল গানের মেজাজ ‘ওগো রাজনীতিতে দাদাগিরি সব আমলেই ছিল/ এই আমলেও দাদাগিরি যে কমবেশি হল/ বাম আমলে মজিদ মাস্টার, তপন সুকুর জন্মেছিল/ এই আমলেও কত না আরাবুলের জন্ম হল/ তাই তো বলি বঙ্গবাসী শুনুন দিয়া মন/ এই সব দাদারাই বাংলায় অশান্তির কারণ।’ ভোটের মতো বোলানকেও এ বার তারকায় ধরেছে।

 

 

শ্রাদ্ধ মেলা

গোবিন্দ ঘোষ ঠাকুরের শ্রাদ্ধ মেলা এই নামটাই চলে আসছে দীর্ঘদিন। কথিত আছে, অগ্রদ্বীপে গিয়ে পার্ষদ গোবিন্দ ঘোষের বাড়িতে গোপীনাথ মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শ্রীচৈতন্যে নিজে। গোবিন্দ ঘোষের মৃত্যুর আগে সেই মূর্তিটি কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে চলে গেলেও তিনি বলে গিয়েছিলেন, তাঁর পারলৌকিক কাজ যেন গোপীনাথই করে। সেই মতো গোপীনাথ মূর্তিকে কাছা পরিয়ে অগ্রদ্বীপে এনে ভাগীরথীর তীরে শ্রাদ্ধ করানো হয়েছিল। সেই থেকে মেলার শুরু। প্রায় পাঁচ শতাব্দী পরেও প্রতি বছর চৈত্র মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে মেলা বসে আসছে। এক সময়ে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির প্রতিনিধি হিসাবে স্থানীয় জমিদারেরা মেলা পরিচালনা করতেন। এখন নিয়ন্ত্রণ এলাকার বিশিষ্টজনদের নিয়ে গঠিত মেলা কমিটি। গোপীনাথ মূর্তি কার কাছে থাকবে তা নিয়ে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি ও অগ্রদ্বীপের দড়ি টানাটানি চলছে। তার মধ্যেই আজ, বুধবার শুরু হচ্ছে মেলা। দুপুর ১২টা নাগাদ গোপীনাথকে কাছা পরে মন্দির থেকে বের করে কাছেই গোবিন্দ ঘোষের সমাধির সামনে শ্রাদ্ধ করানো হবে। কয়েক লক্ষ মানুষের ভিড়ে প্রতি বছরের মতোই তিন দিনের মেলা সাত দিনে গড়াবে।

 

নাসার টানে

অমিক।

সৌমিক।

বছরখানেক আগেই সে উড়ে গিয়েছিল মার্কিন মুলুকে। তার সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন এড্যুইন অলড্রিন, আব্দুল কালাম। এ বার ফের সান দিয়েগোয় ডাক পেয়েছে দুর্গাপুরের হেমশিলা মডেল স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র অমিক মন্ডল। বৃহস্পতির পাশে থাকার ব্যবস্থা কী ভাবে করা যায়, ৪২ পাতায় ঠাসা পরিকল্পনা পাঠিয়ে নাসার ডাক শুনেছে দুর্গাপুরের ৫৪ ফুট এলাকার সৌমিক ঘোষ মৌলিকও। পৃথিবীর বাইরে কী ভাবে মানুষের থাকার স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় তা জানতে চেয়ে ১৯৯৪ থেকে প্রতি বছর একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে আমেরিকার ন্যাশানাল স্পেস সোসাইটি এবং নাসা এএমইএস রিসার্চ সেন্টার। পৃথিবী শেষ হলে কী ভাবে মানুষ মহাকাশে গিয়ে অস্তিত্ব রক্ষা করবে ছবি-সহ তা ব্যাখ্যা করে গত বছরই অষ্টম শ্রেণি বিভাগে তৃতীয় হয়েছিল অমিক। এ বার নবম শ্রেণি বিভাগে অমিক দ্বিতীয় হয়েছে। রানিগঞ্জের মঙ্গলপুরের এসকেএস স্কুল থেকে এ বার দশম শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছে সৌমিক। প্রতিযোগিতার দশম শ্রেণি বিভাগে সে তৃতীয় হয়েছে। পড়ার চাপ বাড়ায় অমিক এ বার আর মার্কিন দেশে যাবে না বলে জনিয়েছেন তার বাবা-মা। তবে ১৪ থেকে ১৮ মে লস অ্যাঞ্জেলসে ন্যাশনাল স্পেশ সোসাইটির ইন্টারন্যাশনাল স্পেশ ডেভলপমেন্ট কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে সৌমিক পাসপোর্ট-ভিসার তোড়জোর শুরু করে দিয়েছে।

 

ইতি পলাশ

শুধু পলাশ নিয়েই পত্রিকা। বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ থেকে কবিতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে পলাশ ব্যবহারের সাতকাহন। বর্ধমানের রূপনারায়ণপুর থেকে বছরে মাত্র এক বার বেরোয় এই পলাশ কথা। এ বছর পত্রিকার কলেবর বেড়েছে। নয়-নয় করে ৪৪টি লেখা ধরা দুই মলাটে। শান্তিনিকেতনের বসন্তোৎসবে পলাশ ছিঁড়ে খোঁপায়-গলার পরার বিরুদ্ধে আটের দশক থেকে যাঁরা সরব হয়েছিলেন, তাঁদের অন্যতম শ্যামলী খাস্তগীরের ২০০১-এ প্রকাশিত প্রতিবাদী দলিলও পুর্নমুদ্রিত হয়েছে। রয়েছে হলুদ পলাশ খুঁজতে গিয়ে জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও। সম্পাদক দিবাকর দাস জানান, মাইথন জলাধারের ও পারে ঝাড়খণ্ডের কেওটজালিতে পলাশের বনে দোল ও তার আগের দিন তাঁরা উৎসব করেন। এ বার রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে শতাধিক মানুষ গিয়েছিলেন। পলাশবনে তাঁবুতে তাঁদের পূর্ণিমার রাত কেটেছে।

 

মজায় বিজ্ঞান

ওঁরা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানচর্চা করেন। ওঁদের গবেষণার ফল প্রকাশিত হয় ইংরেজিতেই। তা বলে মাতৃভাষার টান কি উপেক্ষা করা যায়? সেই টান থেকেই গত জাতীয় বিজ্ঞান দিবসে একটি ওয়েবসাইট ইন্টারনেটে ভাসিয়ে দিয়েছেন রাজিবুল, সজল, কুণাল, দিব্যজ্যোতি, অনির্বাণ। ওঁরা কেউ হার্ভার্ডে, কেউ পেনসিলভেনিয়ায় পোস্ট ডক্টরেট করছেন। ওঁদের কথায়, “এখানে আমরা লিখব বিজ্ঞানের যে বিষয়গুলিকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, খেলা করেছি তেমন বিষয় নিয়ে। সবার জন্য, সহজ করে।” প্রধান লক্ষ্য অবশ্যই স্কুলের পড়ুয়ারা। তাদের কাছে বিজ্ঞানকে আকর্ষণীয় করে তুলতে সাইটে রাখা হয়েছে নানা মজার ছবি, বিজ্ঞানের খবরাখবর, ধাঁধা, ক্যুইজ। কোনও বিভাগের নাম ‘ক্লাশরুম’ তো কোনওটার নাম ‘ফুটোস্কোপ’। রয়েছে পাঠকের প্রশ্ন পাঠানোর রাস্তাও। রাজিবুলের কথায়, “আমার ছোটবেলার স্কুল হলদিয়ার চাকদ্বীপা হাইস্কুলে সেই ২০০৭ সাল থেকে আমরা প্রতি বছর একটা করে বিজ্ঞান সেমিনার করে আসছি। হাইস্কুলের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করার সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই ওয়েবসাইটটার আইডিয়া পাই।” পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সজল ধারার দেশের বাড়ি বীরভূমের বাহিরী গ্রামে। ‘বিজ্ঞান পড়ব কেন?’ বলতে গিয়ে তিনি বলছেন, “আমাদের যদি প্রশ্ন করা যায়, বিজ্ঞান ভাল লাগত কেন? নিজের স্কুল জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে একটা শব্দে উত্তর দেব: মজা।” এই ফূর্তিটাই সবার মধ্যে চারিয়ে দিতে চাইছে লোকবিজ্ঞানের (পপুলার সায়েন্সের এই নামই দিয়েছেন ওঁরা) সদ্য পথ চলতে শুরু করা www.bigyan.org.in।

 

অলচিকি স্বামীজি

স্বামী বিবেকানন্দের জীবনী বাংলায় কম নেই। ইংরেজিতেও না। হিন্দি, ওড়িয়া থেকে শুরু করে কোন প্রধান ভাষাতেই বা স্বামীজির বাণী ও জীবনী পাওয়া যায় না? কিন্তু সাঁওতালি ভাষায় অলচিকি লিপিতে লেখা জীবনী কি আদৌ মেলে? স্বামীজির সার্ধ শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি তেমনই একটি বই প্রকাশিত হল বীরভূমের সিউড়ি থেকে। লেখক বিশ্বভারতীর ভাষা ভবনের শিক্ষক সনৎ হাঁসদা। জেলার সাঁওতাল অধ্যুষিত এলাকার প্রাথমিক স্কুলগুলিতে বইটি বিনা পয়সায় বিলি করা হবে বলে প্রকাশকদের তরফে জানানো হয়েছে।

 

শত-হীরা

বছর দুই আগেও তিনি এক কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে নিজের মুদির দোকানে যেতেন। বড় ছেলে সেচ দফতরের চাকরি থেকে অবসর নিয়ে দোকানের হাল ধরার পরে এখন আর যান না। বরং সকালে একটু দেরি করেই ওঠেন। পয়পরিষ্কার হয়ে স্নানটান সেরে নেন। একটাও দাঁত নেই। কিন্তু শক্ত মাড়ি দিয়ে দিব্যি মুড়ি চিবোন চায়ের সঙ্গে, বা দু’খান বিস্কুট। দুপুরে ডাল ভাত সব্জি। ভাতঘুমের ধাত তাঁর নেই। বরং দুপুর গড়াতেই বেরিয়ে পড়েন। মাঠে দাঁড়িয়ে ছেলেপিলেদের বল পেটানো দেখেন। মন্দিরের চাতালে আড্ডা দেন। সন্ধেয় ফিরে মুড়ি চানাচুর, টিভির খবর, একটু গড়িয়ে নেওয়া। ছেলে দোকান বন্ধ করে ফিরলে রাত ১১টা নাগাদ সব্জি-রুটি বা ভাত বাড়ির আর সবার জন্য যা হয়। ঠিকই চলছিল। বিপত্তি বাধে ক’দিন আগে। ফুটবল মাঠের ধারে ছেলেদের হুড়োহুড়িতে বেসামাল হয়ে পড়ে কোমরের হাড় ভাঙে। শ্রীরামপুরের বেলুমিল্কিতে শ্রমজীবী হাসপাতালের অস্থি শল্যচিকিৎসক শুভম দাসের কথায়, “বয়স দেখে প্রথমে আমরাও ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা গেল, সব স্বাভাবিক। প্রেশার নেই, সুগার নেই, হার্ট সবল। ঠিক করে ফেললাম, অপারেশন করব।” ২০ মার্চ অস্ত্রোপচার হয়েছে। দিন চারেকের মধ্যে উঠে দাঁড়িয়েছেন উত্তরপাড়া কানাইপুরের হীরালাল দাস। হাসপাতালের ওয়ার্ডে টুকটুক করে হেঁটেই মঙ্গলবার ১০০ বছরের ফিনিশ লাইন ছুঁলেন তিনি। শতবর্ষের সম্মানে হাসপাতাল তাঁর ভর্তি থাকা বা অস্ত্রোপচারের খরচ নেয়নি। জন্মদিনে রোগীর পথ্যের বদলে সাজিয়ে দিয়েছে ‘হীরালাল দাস ১০০’ লেখা কেক। গত পঞ্চাশ বছর তিনি আমিষ ছোঁননি। নাতিপুতি আর ডাক্তারের মুখে কেক গুঁজে দিয়ে কিন্তু মুচকি হেসে ফাঁস করলেন রহস্য, “পদ্মার লাফানো ইলিশ আর কচি ঘাস খাওয়া গরুর দুধ খেয়ে মানুষ তো, তাই এখনও দম ফুরোয়নি!” শ্রমজীবী স্কুলের খেলুড়ে ছেলের দল তাঁর হাতে তুলে দিল জন্মদিনের উপহার ফুটবল।

 

ঝুমুরিয়া

তাঁর পেশাগত চর্চার বিষয় শারীরশিক্ষা। কিন্তু স্কুলের চৌহদ্দিতে কেবলই সেই পেশা আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকতে রাজি নন পুরুলিয়ার নেতাজি আদর্শ হাইস্কুলের শিক্ষক মাধবচন্দ্র মণ্ডল। সাঁতুড়ি থানা এলাকার ঢেঁকশিলা গ্রামের মাধবের পরিচিতি বরং ঝুমুর গায়ক হিসেবেই বেশি! আর এই লোকগান গাইতে-গাইতেই মাধব এক সময়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন হারিয়ে যাওয়া ঝুমুর গান সংগ্রহের কাজে। সেই কাজে নেমে স্থানীয় পঁচিশ জন শিল্পীর স্মৃতি থেকে ইতিমধ্যেই তিনি সংগ্রহ করে ফেলেছেন দু’শোরও বেশি ঝুমুর। সেই সব গানের কথা ও সুর সযত্নে লিখে রেখে, তার মধ্যে দিয়ে এই লোকগানের ইতিহাসকেও তিনি ধরে ফেলতে চাইছেন। সমসময়কে ধরে কী ভাবে লোকগানগুলি লেখা হয়েছে তার তথ্যনিষ্ঠ বিশ্লেষণও থাকছে তাঁর ঝুমুর-সংগ্রহে। বাঘমুণ্ডির একটি ইতিহাস লেখাতেও হাত দিয়েছেন মাধব। পুরুলিয়ার এই প্রত্যন্ত ব্লকের পুরাতত্ত্ব ও ইতিহাসের সঙ্গে ওই এলাকার আধুনিক কালের লোকচর্চার তথ্যও তাঁর লেখায় জায়গা করে নিয়েছে। প্রসঙ্গ বাঘমুণ্ডি নামে বইটি এখন প্রকাশের অপেক্ষায়।