সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অপ্রস্তুত

Coronavirus
—ফাইল চিত্র

Advertisement

চিনে করোনাভাইরাস মারণরূপ ধারণ করিবার পরেই প্রশ্ন উঠিয়াছে, ভারত কি প্রস্তুত? জল্পনার প্রয়োজন নাই, বিশেষজ্ঞদের মতামত পূর্বেই মিলিয়াছে। জনস্বাস্থ্যে বিপর্যয়ের মোকাবিলায় কে কতটা প্রস্তুত, বুঝিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সকল দেশের সমীক্ষা করিয়াছিল। গত বৎসর প্রকাশিত রিপোর্টে ভারতের প্রাপ্ত নম্বর চল্লিশ শতাংশ, তাহার স্থান হইয়াছে ছাপ্পান্নটি দেশের পরে। অর্থাৎ প্রস্তুতিতে যথেষ্ট ঘাটতি রহিয়াছে। সে কথা দেশবাসীর অজানা নহে। চিন যে ভাবে করোনা সংক্রমণের বিস্তার রুখিতে দশ দিনের মধ্যে ষাট হাজার বর্গফুটের হাসপাতাল গড়িয়াছে, এবং তাহাতে চৌদ্দশো সামরিক চিকিৎসক নিয়োগ করিয়াছে, তাহাতে তাজ্জব ভারতবাসী। এই দেশে সরকারের এমন তৎপরতা অকল্পনীয়। অপর পক্ষে, একটি গোটা শহরকে ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ করিয়া তুলিয়া তাহার প্রতিটি বাসিন্দাকে ঘরবন্দি করিয়াছে চিন। ভারতবাসী এমন নিষেধাজ্ঞা মানিবে, না কি যথেচ্ছ যাইবার ‘অধিকার’ দাবি করিয়া ধুন্ধুমার বাধাইবে, সে প্রশ্নও থাকিয়া যায়। তাই বলিয়া মহামারির মোকাবিলায় ভারত একান্ত ব্যর্থ, এমনও নহে। ভারতেরই একটি রাজ্য দুই বৎসর পূর্বে এমন একটি মারণ-সংক্রমণের মোকাবিলায় সফল হইয়াছে। কেরল যে ভাবে বাদুড়-বাহিত নিপা ভাইরাসের প্রকোপকে রুখিয়া দিয়াছে, তাহা গোটা বিশ্বে প্রশংসিত হইয়াছিল। সে বার দুইটি জেলার দুই হাজার মানুষকে ঘরবন্দি করিয়া নজরাধীন রাখিয়াছিল কেরল। এ বারেও করোনাভাইরাসের বিস্তার রুখিতে কেরল সফল হইয়াছে। অতএব ভারতও মহামারি হইতে সুরক্ষা দিতে পারে, যদি সরকার ও নাগরিক তাহাদের কর্তব্য, এমনকি অপ্রিয় কর্তব্য করিতে তৈরি থাকে।

জনস্বাস্থ্যে বিপর্যয় রুখিবার জন্য কী কর্তব্য, তাহার মূল কথাগুলিও অজানা নহে। প্রধান প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি। ওড়িশা উপকূলে গত বৎসর ভয়ানক দুইটি ঘূর্ণিঝড়ে যত প্রাণক্ষয় হইতে পারিত, অত হয় নাই। কারণ এমন একটি ঝড় আসিলে কে বিপদসঙ্কেত জারি করিবে, তাহাতে কোন আধিকারিক কোন কাজগুলি করিবেন, মানুষ কোথায় আশ্রয় লইবে, সকলেই জানিতেন। নীতি বহু পূর্বেই নির্দিষ্ট ছিল, সকল ব্যবস্থাও প্রস্তুত ছিল, আপৎকালে তাহা সক্রিয় করা হইয়াছে মাত্র। স্বাস্থ্যে বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেও এমন সুসংহত ব্যবস্থা প্রয়োজন, যাহা দেশের সীমান্তে অভিবাসন আধিকারিক হইতে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক পর্যন্ত সকলে মানিবেন। বিপদ কী, ঝুঁকিগ্রস্ত কাহারা, এবং তাহাদের সুরক্ষা দেওয়া হইবে কী উপায়ে, এগুলি বুঝিবার ও করিবার ক্ষমতাই বিপর্যয় মোকাবিলার প্রধান প্রস্তুতি। 

তাহার পরিকাঠামো তৈরি করিতে ভারত যথেষ্ট টালবাহানা করিয়াছে। ২০০৯ সালে এইচ১এন১ ভাইরাস (সোয়াইন ফ্লু) ভারতে হানা দেওয়ার পর স্থির হয়, সারা দেশে দেড়শোটি ভাইরাস-নির্ণয়ের গবেষণাগার তৈরি হইবে। এখনও অবধি কেবল আশিটি কাজ করিতেছে, সেগুলিও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সহিত সংযুক্ত নহে। যে কোনও অচেনা জীবাণুর নমুনা পাঠাইতে হয় পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে। অন্তত প্রধান চারটি অঞ্চলে এই মানের গবেষণাগার প্রয়োজন। তৎসহ, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ যে ‘আবশ্যক পরীক্ষা তালিকা’-র প্রস্তাব করিয়াছে, তাহাও কার্যকর করিতে হইবে। সকল স্তরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে এই পরীক্ষাগুলির পরিকাঠামো থাকিলে আপৎকালে তাহার ক্ষমতাবৃদ্ধি করা সম্ভব। তাহাতে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও বিস্তার প্রতিরোধ সম্ভব হইবে। সর্বোপরি, ভারতের মতো জনবহুল দেশে সংক্রমিত মানুষ একবার ঢুকিলে রোগবিস্তার প্রতিরোধ অতি কঠিন। তাই অভিবাসন দফতরকে ঝুঁকি চিহ্নিত করিবার জন্য অনেক তৎপর হইতে হইবে। জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে যে প্রস্তুতির বিকল্প নাই, এই কথাটি ভারত দ্রুত বুঝিলে মঙ্গল।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন