Advertisement
E-Paper

ক্ষুদ্র সংস্করণ

তা রাতলার হাইড রোড এক্সটেনশনে যেন একটি খুদে পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হইয়াছে। সেখানে জমি দখলদারি রহিয়াছে, দখলদারের মাথায় কালীঘাটের আশীর্বাদ থাকায় তাহার বিপুল দাপটও রহিয়াছে। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তাও বিলক্ষণ আছে। আর, ছোট ছেলেদের ছোট ভুল? তাহাও আছে।

শেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:০১

তা রাতলার হাইড রোড এক্সটেনশনে যেন একটি খুদে পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হইয়াছে। সেখানে জমি দখলদারি রহিয়াছে, দখলদারের মাথায় কালীঘাটের আশীর্বাদ থাকায় তাহার বিপুল দাপটও রহিয়াছে। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তাও বিলক্ষণ আছে। আর, ছোট ছেলেদের ছোট ভুল? তাহাও আছে। গত রবিবার ছোট ছেলেরা ‘ভুলবশত’ সাংবাদিকদের বেধড়ক প্রহার করে। তবে, পোর্ট ট্রাস্টের এই দখল হইয়া জমিটি শুধু উপরোক্ত কারণগুলির জন্যই পশ্চিমবঙ্গের খুদে সংস্করণ নহে। রবিবারের লঙ্কাকাণ্ডের পর সোমবার দেখা গেল, বন্ধ দরজার পিছনে সিরিয়ালের শুটিং চলিতেছে। কুশীলবরা মুখে রঙ মাখিয়া পরিচালকের শিখাইয়া দেওয়া বুলি আওড়াইতেছেন। যেন কোথাও কোনও অস্বাভাবিকতা নাই। এখানেই হাইড রোড আর পশ্চিমবঙ্গ এক হইয়া গেল। রবিবারের কাণ্ডের পরও প্রশাসন নিশ্চুপ। পশ্চিমবঙ্গে যাহাই ঘটুক, শেখানো বুলি আওড়ানো ও বাঁধা ছকে পা ফেলা ভিন্ন প্রশাসনের কিছু করিবার থাকে না। মেরুদণ্ড বন্ধক রাখিলে হাতের পুতুল হইয়া থাকাই ভবিতব্য।

উত্তরবঙ্গ সফরে থাকা মুখ্যমন্ত্রীও কিছু বলেন নাই। তিনি বিলক্ষণ জানিবেন, তারাতলায় পুলিশ দুই গোত্রের অন্যায় করিয়াছে, এবং অভিযুক্ত শ্রীকান্ত মোহতা তাঁহার কিঞ্চিৎ বেশি রকম ঘনিষ্ঠ বলিয়াই সেই অন্যায় না করিয়া পুলিশের উপায় ছিল না। প্রথম অন্যায়, যাহা কর্তব্য, তাহা না করা। এলাকায় শান্তি বজায় রাখা পুলিশের কর্তব্য। পোর্ট ট্রাস্ট যখন নিজেদের জমির দখল লইতে যায়, তখন যে বিস্তর গোলমাল হইতে পারে, পুলিশের না জানিবার কথা নহে। কিন্তু, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতি দায়বদ্ধ থাকিবার তাড়নায় পুলিশ পোর্ট ট্রাস্টের অনুরোধে কর্ণপাত করে নাই। বাহুবলীরা যখন সাংবাদিক ঠ্যাঙাইতেছিল, তখনও পুলিশের দেখা পাওয়া যায় নাই। কিন্তু, পর দিন সকালে দেখা গেল, সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় ভাড়াটে বাহুবলীদের আড়াল করিতে পুলিশ হাজির। ইহা পুলিশের দ্বিতীয় গোত্রের অন্যায়— যাহা করা উচিত নহে, তাহা করা। মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদধন্য শ্রীকান্ত মোহতার অন্যায় দখলদারি যাহাতে নির্বিঘ্নে চলিতে পারে, পুলিশ তাহার ব্যবস্থা করিতেছে। ছবিটি পরিচিত। গোটা রাজ্য জুড়িয়া এখন ইহাই পুলিশের একমাত্র কাজ। কেহ বলিতে পারেন, পুলিশের এই মেরুদণ্ডহীনতা তৃণমূল আমলে শুরু হয় নাই, ইহার শিকড় আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে। কথাটি অস্বীকার করিবার নহে। কিন্তু, এই অন্যায় প্রবণতাটিকে পুলিশের ধর্মে পরিণত করিবার দায় না লইয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাইবেন কোথায়?

তাঁহার আমলে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পশ্মশানে পরিণত হইয়াছে। তারাতলার ঘটনায় সেই শ্মশানে আরও একটি— বস্তুত, একাধিক— মৃতদেহ পুড়িল। পোর্ট ট্রাস্ট কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা। তাহাকে যথাযথ প্রশাসনিক সাহায্য করিতে রাজ্য সরকার দায়বদ্ধ। তেমন একটি সংস্থাও যদি এই রাজ্যে, খাস কলিকাতায়, নিজেদের দখল হইয়া যাওয়া জমি পুনরুদ্ধার না করিতে পারে, তবে শিল্পমহলে একটিই বার্তা পৌঁছায়— ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুকে যেও না খবরদার’। শিল্পমহল আরও এক বার জানিল, পশ্চিমবঙ্গে আইন অপেক্ষা মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদের দাম বেশি। শ্রীকান্ত মোহতারা ডোবার মাছ— ফলে তাঁহাদের গত্যন্তর নাই। কিন্তু, সর্বভারতীয় বা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের তো সেই দায় নাই। তাঁহারা মুখ্যমন্ত্রীর মন জুগাইয়া ব্যবসা করিবার দায় লইবেন কেন? কেন তাঁহারা আইনের শাসনহীনতার বাস্তবটি মানিয়া লইবেন? বস্তুত, তাঁহারা একটি প্রশ্ন করিতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গের এখন এমনই অবস্থা যে একা দৌড়াইলেও প্রথম হইতে পারে না। এই বাজারে শিল্পবান্ধব রাজ্যের তালিকায় একাদশতম স্থানটি পশ্চিমবঙ্গ বাগাইল কোন জাদুতে?

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy