Advertisement
E-Paper

ভোটের দেড় মাস পরও স্কুল দখল করে কেন্দ্রীয় বাহিনী! পড়ুয়াদের স্বার্থে এ বার সরতে হবে অন্যত্র, নির্দেশ জারি

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে বাহিনী ঢুকতে শুরু করেছে এ রাজ্যে। গোটা রাজ্যে একের পর এক স্কুল কলেজে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। তার ফলে, এপ্রিলে স্কুল স্তরে পঠনপাঠন যেমন ব্যাহত হয়েছে, তেমনই বাতিল করতে হয়েছে পরীক্ষা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ২০:০১

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ভোট মিটেছে ২৯ এপ্রিল, নতুন সরকার শপথ নিয়েছে ৯ মে। অথচ জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এ রাজ্যের কোনও কোনও স্কুলে রয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই ব্যাহত হচ্ছে পঠনপাঠন।

এ বার দ্রুত স্কুল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিল স্কুল শিক্ষা দফতর। বদলে বাহিনীকে রাখার বন্দোবস্ত করতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এমন কোনও উপযুক্ত ভবনে। সম্প্রতি দফতরের তরফে সরকারের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব জেলাশাসক এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে বাহিনী ঢুকতে শুরু করেছে এ রাজ্যে। গোটা রাজ্যে একের পর এক স্কুল কলেজে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। তার ফলে, এপ্রিলে স্কুল স্তরে পঠনপাঠন যেমন ব্যাহত হয়েছে, তেমনই বাতিল করতে হয়েছে পরীক্ষা। এমনই অভিযোগ শিক্ষমহলে।

নির্বাচন পর্ব মিটেছে, স্কুলও খুলেছিল। কিন্তু কোনও কোনও স্কুলে এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ।

হিসাব বলছে, গত ১ জুন গরমের ছুটির পরে স্কুল খুললেও দেখা যায় গোটা রাজ্যে ১৬৫টি স্কুলে রয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিভিন্ন জেলা স্কুল পরিদর্শকেরা দফতরে এই রিপোর্ট পাঠিয়েছেন।

স্কুল শিক্ষা দফতর যে চিঠি পাঠিয়েছে প্রশাসনিক স্তরে, সেখানে এই রিপোর্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে স্কুলের তালিকাও।

গত ১ এপ্রিল থেকে রাজ্যের সব স্কুলে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির সামেটিভ পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। কোনও কোনও স্কুল সেই পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোটালপুরের একটি স্কুলে পড়ুয়ারা নির্দিষ্ট সময় পরীক্ষা দিতে এসেও ফিরে যায়। কারণ তত ক্ষণে স্কুল চলে গিয়েছে বাহিনীর দখলে।

সে সময়ই দাবি উঠেছিল, অন্য কোনও জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাখার। এ বার দফতর থেকেই এই চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘আরও আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল। ১ জুন স্কুল খুলেছে। দু'সপ্তাহ পরও দেখা যাচ্ছে স্কুল দখল করে রয়েছে বাহিনী! এ ভাবে কি চলতে পারে? এ বারের দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিয়ে যেন আগামী দিনেও সিদ্ধান্ত হয়, পড়ুয়াদের স্বার্থে সেই দাবি জানাই।"

শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, "নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পরও যে সব স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকায় ক্লাস ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না, সে সব স্কুল দ্রুত খালি করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য এই নির্দেশ খুবই জরুরি।"

central force Schools
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy