জতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী চার বছরের স্নাতক পঠনপাঠন এ রাজ্যে চালু হয়েছে ২০২৩ থেকে। সেই অনুযায়ী চতুর্থ বর্ষের প্রথম পড়ুয়ারা ২০২৬-এই ভর্তি হতে চলেছেন। আগেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, কলেজ ছেড়ে কোনও পড়ুয়া এই চতুর্থ বর্ষে এসে ভর্তি হতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়েও। তবে এ জন্য তাঁদের প্রবেশিকায় উত্তীর্ণ হতে হবে। জানিয়ে দিলেন উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ।
জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী স্নাতক স্তরে শুরু হয়েছে ‘মাল্টিপল এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম’। অর্থাৎ, প্রথম বর্ষেই কোনও পড়ুয়া চাইলে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে শংসাপত্র নিতে পারেন। আবার চাইলে তিনি যে কোনও সময় ফিরে এসে শুরু করতে পারেন পড়াশোনা। শুধু প্রথম বর্ষ নয়, যে কোনও সময় পড়াশোনা ছেড়ে যাওয়া এবং ফিরে আসার সুযোগ দিচ্ছে এই ব্যবস্থা। এরই মধ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়ে দিল, চতুর্থ বর্ষের রিসার্চ ইন অনার্স বা এক বছরের স্নাতকোত্তর কোর্সের জন্য যাঁরা ভর্তি হতে আসবেন, তাঁরা আদৌ প্রস্তুত কি না, তা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। তাই পরীক্ষার ব্যবস্থা।
আরও পড়ুন:
উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, “তিন বছরের পড়াশোনা শেষ করে অনেকেই মাস্টার্স-ইন-প্রফেশনাল কোর্স করতে চলে যাবেন বা চাকরি করবেন। আবার বহু পড়ুয়া অন্য কোনও বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও এসে চতুর্থ বর্ষে ভর্তি হতে চাইবেন হয়তো। তাঁদের মেধাতালিকার ভিত্তিতে ভর্তি না নিয়ে, প্রবেশিকার ফলের উপর ভরসা করতে চাইছি আমরা।”
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছেন কর্তৃপক্ষ। বেশির ভাগ বিভাগ সম্মতি জানালেও ইংরেজি-সহ বেশ কিছু বিভাগের আপত্তি রয়েছে এমসিকিউ ভিত্তিক পরীক্ষায়। ভাষা-সাহিত্য সংক্রান্ত বিষয়ে এ ভাবে মূল্যায়ন করা যায় না বলেই তাদের দাবি। এ প্রসঙ্গে আশুতোষ বলেন, “আমরা বিভাগগুলির সঙ্গে কথা বলেই নীতি নির্ধারণ করব। সে ক্ষেত্রে কোন বিভাগের ক্ষেত্রে কী নিয়ম চালু হবে, তা স্থির হবে উপযুক্ত পরিবেশ বিবেচনা করেই।”
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্বশাসিত কলেজ সেন্ট জেভিয়ার্স। তারা শর্তসাপেক্ষে চতুর্থবর্ষের জন্য প্রবেশিকার ব্যবস্থা রাখতে চাইছে। অধ্যক্ষ ডমিনিক সাভিও বলেন, “কলেজের ছাত্রছাত্রীরা সরাসরি ভর্তি হতে পারবেন চতুর্থ বর্ষে। বাইরে থেকে আসা পড়ুয়াদের মধ্যেও যাঁরা ৬৫ শতাংশের কম নম্বর পেয়েছেন, শুধু তাঁদেরই প্রবেশিকা দিতে হবে।”