কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে নষ্ট করা হয়েছে পোস্টার, অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সঙ্ঘের সদস্যেরা। গত ২৬ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক সভার আগের দিনেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের ভাবধারায় গঠিত ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ অনুমোদিত এই সংগঠনের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দাবি।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করতেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও শনিবার পর্যন্ত ওই ঘটনার কোনও সুরাহা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। সংগঠনের প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক তথা কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালের উপাচার্যের সচিব সুশান্ত মজুমদার জানান, ২৬ মে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে ভিতরে। তার আগে ২৫ মে বিকেলে দেখা যায়, তাঁদের ব্যানারটিকে উল্টে দেওয়া হয়েছে। যদিও তার পাশে বিজেপি ট্রেড ইউনিয়ন রিলেশন সেলের কর্মচারী সংগঠন ওয়েস্টবেঙ্গল ইউনিভার্সিটিস কর্মচারী পরিষদের ব্যানার রয়েছে। এই ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন বলে জানান সুশান্ত। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করতেই এই ঘটনা, তদন্তের প্রয়োজন।
সংগঠনের দাবি, ২০১৮ সাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের সংগঠনের কার্যক্রম চলছে। যদিও ২০২০ সালে সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন হয়। তৃণমূলের আমলে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পরে পরিস্থিতির বদলেছে। সম্প্রতি ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস ভট্টাচার্য রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের চিঠি দিয়ে ওই কর্মচারী সংগঠনের বিষয়ে জানিয়েছেন। তার পরও কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সঙ্ঘ বাধার সম্মুখীন হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আগের ও পরের ছবি ।
সুশান্ত বলেন, ‘‘তৃণমূলের আমলে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই আমাদের গুরুত্ব দিতেন না। কিন্তু আমরা নীরবে কাজ করে গিয়েছি। আমাদের কাছে দেশই প্রথম, তার পর বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেষে কর্মচারী। শুধু আদায়ের বদলে সার্বিক ভাবে দেশের ও দশের উন্নতিতেই আমরা বিশ্বাসী। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগের দিন এই ঘটনা কী ভাবে ঘটল তার তদন্ত চাই।’’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাংশু রায় বলেন, ‘‘ আমরা যে কোনও অভিযোগ পেলেই সেটা খতিয়ে দেখি। এক্ষেত্রেও অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’