বিধানসভা নির্বাচনের জন্য স্নাতকের প্রথম সেমেস্টারের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এ বার ফের পিছিয়ে গেল স্নাতকের ষষ্ঠ সেমিস্টারের পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৯ জুন যে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, সেই পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ১৬ জুন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, নির্বাচনের সময় নিয়মিত ক্লাস করানো যায়নি। কিছু অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি। অনেক কলেজে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার কারণে ক্লাসের ব্যাঘাত ঘটেছে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, কম সময়ে পাঠ্যক্রম ভাল ভাবে শেষ হয়নি। তাই ছাত্র সংগঠন ডিএসও-র তরফে কর্তৃপক্ষের কাছে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানানো হয়। পাঠ্যক্রম শেষ না করেই পরীক্ষা নিলে তার প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলে পড়তে বাধ্য। তাই শেষে এই পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই খবর।
কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে চলেছেন তাঁরা। এ খরব আগেই প্রকাশিত হয়েছে আনন্দবাজার ডট কম-এ। তার পরে আর কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বর্তমানে যে হেতু তার ব্যবস্থা নেই, তাই পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ। ডিএসও-র কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, “পঞ্চম সেমেস্টারের পরীক্ষা মার্চ মাসে শেষ হয়েছে। তার পর পঠনপাঠন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল নির্বাচনের কারণে। এর মধ্যেই ৯ জুন থেকে ষষ্ঠ সেমেস্টারের পরীক্ষা ঘোষণা করেছিলো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এই সিদ্ধান্ত ছাত্র ও শিক্ষা স্বার্থ বিরোধী। আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলাম।” তাঁর দাবি, ছাত্রছাত্রীদের পর্যাপ্ত ক্লাস করে পাঠ্যক্রম শেষ করিয়ে পরীক্ষা নিতে হবে। ১১ মাসের মধ্যে ৩টি সেমেস্টারের পরীক্ষা নেওয়া ছাত্রস্বার্থ বিরোধী। পাশাপাশি তাঁরা মনে করে এক সপ্তাহর জন্য পরীক্ষা পেছানো শিক্ষার্থীদের কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।