উচ্চ মাধ্যমিকের পর ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা বিজ্ঞান শাখার বিভিন্ন বিষয় বেছে নেন পড়ুয়ারা। অনেকে আবার অন্য ধারার বিষয়ও বেছে নিতে চান উচ্চশিক্ষার জন্য। এমনই একটি বিষয় হল নটিক্যাল সায়েন্স, যা নিয়ে দ্বাদশের পর পড়াশোনা করতে পারেন পড়ুয়ারা। নটিক্যাল শব্দটি গ্রিক ‘নউস’ এবং লাতিন ‘নউটিকাস’ থেকে তৈরি হয়েছে। জাহাজের গতি পরিমাপের একককে ‘নটিক্যাল’ বলা হয়ে থাকে।
উল্লিখিত বিষয়টির মাধ্যমে জাহাজ কোন পথে কী ভাবে চলবে, তাতে বড় বড় কন্টেনার কী ভাবে তোলা হবে, তার আদর্শ ওজন কত হওয়া দরকার, জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের কৌশল নিয়ে শেখার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও সমুদ্রে যাতায়াত করার সময় যে কোনও ধরনের পরিস্থিতিতে জাহাজকে সুরক্ষিত রাখার পদ্ধতি নিয়েও পঠনপাঠনের সুযোগ পেয়ে থাকেন পড়ুয়ারা। এ জন্য পদার্থবিদ্যা, গণিত, রসায়নের গভীর জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
কারা পড়তে পারেন বিষয়টি নিয়ে?
নটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে পড়তে আগ্রহীদের পদার্থবিদ্যা, গণিত, রসায়ন বিষয়গুলি দ্বাদশে থাকা প্রয়োজন। এ ছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক কিংবা সমতুল পরীক্ষায় ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পেতে হবে। তবেই উল্লিখিত বিষয়টি নিয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়া সম্ভব।
এ ছাড়াও এই বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনার জন্য মেধার পাশাপাশি, শারীরিক ভাবে সক্ষম হওয়াও সমান ভাবে প্রয়োজন। কারণ উল্লিখিত বিষয়ে শিপ অপারেশন এবং সিম্যানশিপ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়ে থাকে।
কোন কোন কোর্স পড়া যায়?
স্নাতক স্তরে ডিগ্রি এবং ডিপ্লোমা— দু’ভাবেই বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। বিজ্ঞান শাখার অধীনে নটিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে ব্যাচেলর অফ সায়েন্স (বিএসসি) করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তিন বছরের কোর্স সম্পূর্ণ করতে হবে। তাতে নেভিগেশন, শিপ অপারেশন এবং সিম্যানশিপ সংক্রান্ত সব খুঁটিনাটি শেখানো হয়।
পড়ুয়ারা চাইলে ডিপ্লোমা ইন নটিক্যাল সায়েন্স নিয়েও পড়াশোনা করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ১ বছরের প্রি-সি রেসিডেনশিয়াল ডিপ্লোমা করা যায়। পড়াশোনার পাশাপাশি, পড়ুয়াদের অন বোর্ড শিপ ট্রেনিং দেওয়া হয়ে থাকে।
কোথায় পড়বেন?
ইন্ডিয়ান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত হিন্দুস্থান ইনস্টিটিউট অফ মেরিটাইম ট্রেনিং থেকে নটিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে ব্যাচেলর অফ সায়েন্স (বিএসসি) ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কিছু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি পড়ানো হয়ে থাকে। ভর্তি হওয়ার জন্য বিশেষ প্রবেশিকায় পাশ করতে হবে পড়ুয়াদের। কোর্স শুরু হওয়ার পর আলাদা করে পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে।
তবে, ডিপ্লোমা ইন নটিক্যাল সায়েন্স কোর্সটি কোনও সরকারি প্রতিষ্ঠানে করানো হয় না। ডিরেক্টর জেনারেল অফ শিপিং অনুমোদিত রাজ্যের এবং দেশের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উল্লিখিত বিষয়টি পড়ার সুযোগ রয়েছে। ডিপ্লোমা করার জন্য শিপিং সংস্থার তরফে আলাদা করে স্পনসরশিপ পাওয়া যায়। এতে সমুদ্রে ভ্রমণ করে কাজ শেখার সুযোগও পাবেন পড়ুয়ারা।
কাজ করার জন্য প্রয়োজন অনুমোদন:
পড়াশোনা শেষ করার পর পড়ুয়াদের মেডিক্যাল পরিষেবা দেওয়া, জরুরি ভিত্তিতে জাহাজ ছাড়তে হলে কী ভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে— এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এ ছাড়াও জাহাজের আধিকারিক, কর্মী এবং যাত্রীদের সুরক্ষিত রাখার যাবতীয় পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা দরকার।
এ জন্য ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজ়েশন অনুমোদিত একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়। ‘স্ট্যান্ডার্ডস অফ ট্রেনিং, সার্টিফিকেশন অ্যান্ড ওয়াচকিপিং ফর সিফ্যারারস’ প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ হলে কাজে যোগদান করতে পারবেন।
কোন কোন পদে চাকরির সুযোগ?
সব ধরনের প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ হওয়ার পর সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থায় প্রথমে ডেক ক্যাডেট পদে নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এরপর পদোন্নতি হলে থার্ড ও সেকেন্ড অফিসার এবং পরে চিফ অফিসার হিসাবে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। শুরুতে বার্ষিক বেতনক্রম ৩ লক্ষ টাকা থেকে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পদোন্নতির পরে বছরে ২০ লক্ষ টাকা বেতন পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক জাহাজে চাকরির ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের বেতন পাওয়া যায়।