Advertisement
E-Paper

বিতর্ক সত্ত্বেও অনড় সিবিএসই, পুনর্মূল্যায়নের দায়িত্ব থাকছে হায়দরাবাদের সংস্থার হাতেই!

শোনা যাচ্ছে বরাত পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে রোবোটিক স্ক্যানার না ব্যবহার করেই উত্তরপত্র স্ক্যান করার মতো একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোএম্পট এডুটেক-এর হাতেই পুনর্মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ১৫:৪৫

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

একের পর এক অভিযোগ উঠেছে সিবিএসই-র বিরুদ্ধে। দ্বাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলপ্রকাশের ক্ষেত্রে তারা এ বারই প্রথম ওএসএম পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল। যে সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে পরীক্ষার খাতা স্ক্যান করা-সহ একাধিক গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। এ বার সেই সংস্থাকেই পুনর্মূল্যায়নের জন্য দায়িত্ব দিচ্ছে সিবিএসই।

সূত্রের খবর, কোএম্পট এডুটেক ইতিমধ্যেই সব তথ্য সিবিএসই-র পোর্টাল থেকে নিজস্ব ভান্ডারে সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, উত্তরপত্র সংক্রান্ত নথিও সংস্থাকে পাঠানোর কাজ নাকি শুরু হয়েছে। তথ্য সুরক্ষিত থাকবে কি না, সেই সংক্রান্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা নাকি আগেই সম্পূর্ণ হয়েছে বলে দাবি।

অথচ, এই সংস্থাটিকে অনিয়মে বরাত পাইয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগ প্রকাশ্য এসেছিল। হায়দরাবাদের ওই বিশেষ সংস্থাকে কাজ দেওয়ার আগে চুক্তি থেকে কালো তালিকাভুক্তির ধারা বাদ দিয়েছিল সিবিএসই।

উল্লেখ্য, ওই সংস্থার বিরুদ্ধে ভুয়ো নথি প্রদান, খাতা স্ক্যানিং-এ গোলমাল, সুরক্ষিত সফট্অয়্যার ব্যবহার না করার মতো ঘটনার জেরে তেলঙ্গানার ইন্টারমিডিয়েট (প্লাস টু) পরীক্ষার্থীরা এবং নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। অভিযোগ, ওই সংস্থার গাফিলতির তেলঙ্গানায় ৯.৭৪ লক্ষের মধ্যে ৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী পাশ করেননি। ফলপ্রকাশের পর ১৮ জন আত্মঘাতীও হন বলেও জানা যায়।

এ ছাড়াও ওই সংস্থার বিরুদ্ধে রোবোটিক স্ক্যানারের বদলে সাধারণ মানের স্ক্যানার ব্যবহার করে উত্তরপত্র স্ক্যান করা হয়েছিল। যার জেরে মূল্যায়নেও তার প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ। পরীক্ষার্থীদের অনেকেই দাবি করেন, খাতার প্রতিলিপি ঝাপসা। কেউ আবার সঠিক লিখেও নম্বর পাননি, এমনকি অনেকের খাতাই দেখা হয়নি বলে দাবি করেছেন পরীক্ষার্থীরা।

ঘটনার জেরে তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে সিবিএসই। একটি বিবৃতিতে বোর্ডের তরফে জানানো হয়, নিয়মমাফিক বরাত দেওয়া হয়েছিল কোএম্পট এডুটেক-কে। নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বরাত পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ করে দ্বাদশের পড়ুয়া সার্থক সিদ্ধান্ত। এর পর বোর্ডের তরফে জানানো হয়, সংস্থার বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।

হিন্দুস্তান টাইমস-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিবিএসই-র তরফে অন স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) প্রজেক্টের জন্য সম্ভাব্য খরচ হিসাবে যত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, তার তুলনায় বেশি টাকা দেওয়া হয়েছিল সংস্থাটিকে। যদিও সেই সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ভাবে বোর্ডের কোনও বিবৃতিই প্রকাশ্য আসেনি।

পুনর্মূল্যায়নের আবেদন শুরু হওয়ার আগেই সাইবার হানা হয় পোর্টালে। আইআইটি বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে, সুরক্ষিত করা হয়েছে পোর্টাল। জানানো হয়েছিল পুনর্মূল্যায়নও ডিজিটাল পদ্ধতিতেও হবে। তবে, কোন সংস্থার তত্ত্বাবধানে কাজটি করা হবে, সেই সম্পর্কে কোনও তথ্য সিবিএসই জানায়নি।

সিবিএসই-র নতুন করে অনলাইন খাতা দেখা (ওএসএম) এবং ত্রুটিপূর্ণ ফলাফলের কারণে প্রায় চার লক্ষ শিক্ষার্থীদের পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন জমা করতে হয়েছে। দেশের বড় বড় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার বদলে কেন কোএম্পট এডুটেক-কে বরাত দেওয়া হল— তার কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ঘটনার তদন্তের দাবিও জানিয়েছিলেন পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের একাংশ। অথচ শেষ পর্যন্ত ওই সংস্থার হাত ধরেই পুনর্মূল্যায়ন হতে চলেছে। এর জেরে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে পড়ুয়াদের মধ্যে।

CBSE Class 12 Results OSM Revaluation
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy