উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম দশের মেধাতালিকায় নাম উঠেছে তাঁর। শুধু তা-ই নয়, মোট ৬৪ জনের মধ্যে যে চার জন কলকাতার বাসিন্দা, তাঁদের মধ্যে প্রথম কড়েয়া এলাকার বাসিন্দা গোলাম ফৈজ়ল। ৫০০-র মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৪৯৩ নম্বর।
ফৈজ়লেরা চার ভাই-দুই বোন। কড়েয়া এলাকায় এক কামরার ভাড়া ঘরে তাঁদের সংসার। বাবা চায়ের দোকান চালান পার্ক সার্কাস এলাকায়। দুই দিদির সামান্য রোজগার রয়েছে। আর রয়েছে, ফৈজ়লের অদম্য জেদ। এক কামরার ঘরে রাতে তিনি পড়তে বসলে অসুবিধা হত পরিবারের সদস্যদের। তবু, মুখে কোনও দিন কেউ কিছু বলেননি। ছোট ছেলে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ফলপ্রকাশ হতেই দেখা যায় ক্যালকাটা মাদ্রাসা এপি ডিপার্টমেন্ট-এর পড়ুয়া ফৈজ়ল গোটা রাজ্যে চতুর্থ স্থান পেয়েছেন। উর্দুতে ১০০-এ ১০০ , ইংরেজিতে ৯৮, হিসাবশাস্ত্রে ৯৬ অর্থনীতিতে ১০০-এ ১০০ এবং বিজনেস স্টাডিজ়-এ ৯৯ পেয়েছেন তিনি।
ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি অগাধ আস্থা ফৈজ়লের। বাবা চায়ের দোকান নিয়েই ব্যস্ত থাকেন, মা সংসার সামলান। ছোট ভাইয়ের পড়াশোনায় যেন কোনও সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে সব সময় চেষ্টা করেন বড় দাদা-দিদিরা।
ফৈজ়ল বলেন, ‘‘আমি শুধু চেষ্টা করে গিয়েছি। ফল কী হবে সেটা কখনও ভাবিনি। স্কুলের শিক্ষক এবং আমার পরিবারের সদস্যেরা সব সময়ে পাশে থেকেছেন।’’ কিন্তু একটি ঘরে এতজন এক সঙ্গে থাকতে অসুবিধা হয় না? পড়াশোনা করেন কী করে? ফৈজ়ল স্পষ্ট জানান, প্রথম প্রথম মানিয়ে নিতে সমস্যা হত। কিন্তু এখন আর হয় না।
ভবিষ্যতে নিজেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসাবে দেখতে চান ফৈজ়ল। তাঁর কথায়, ‘‘বাবা-মা দাদা-দিদিদের মুখে হাসি ফোটানোই আমার লক্ষ্য। আমাদের থাকার জায়গা নেই। একটা বাড়ি বানিয়ে বাবাকে উপহার দিতে চাই।”