স্কুলের গাফিলতিতে ছাত্র মৃত্যুর অভিযোগে স্কুলের সামনে ফের বিক্ষোভ দেখালেন অভিভাবকদের একাংশ। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই বাঁশদ্রোণীর ওই স্কুলের সামনে বিক্ষোভ চলে। এ দিনের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিল স্কুলপড়ুয়া খুদেরাও। তাদের পরনে ছিল স্কুলেরই পোশাক।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট বেসরকারি স্কুলের অধ্যক্ষ, শ্রেণি শিক্ষক এবং এক আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাঁদের গ্রেফতার করেনি নেতাজিনগর থানার পুলিশ। কেন কর্তৃপক্ষকে গ্রেফতার করা হবে না, সে প্রশ্ন তুলেই বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকদের একাংশ।
বিক্ষুব্ধ অভিভাবক শিবু রায় বলেন, ‘‘পুলিশ মঙ্গলবারই আমাদের জানিয়েছিল, ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে শুনলাম জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের একটাই দাবি, ওই তিনজনকে গ্রেফতার করতে হবে।”
গত ১৩ মে বাঁশদ্রোণী এলাকার ওই বেসরকারি স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়ে বছর আটেকের আয়ুষকুমার নাথ। তার বাবা আশিসকুমার নাথের অভিযোগ, ক্লাস চলাকালীন তাঁর ছেলেকে অসুস্থ বোধ করে। সে কথা শিক্ষিকাকে জানালেও কোনও লাভ হয়নি। তাকে বাড়ি পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং আয়ুষকে মাথা নিচু করে বসতে বলেন শ্রেণিশিক্ষিকা। গোটা সময়টাই আয়ুষ সে ভাবে বসে থাকে। ছুটির পর সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে যায় ওই ছাত্র। চোট লাগে গুরুতর। স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখান থেকে পরিবারের লোকজন এসএসকেএম-এ ভর্তি করান। প্রায় ১০ দিন অচৈতন্য থাকার পর রবিবার মৃত্যু হয় ওই বালকের।
তার পরই নেতাজিনগর থানায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক ভাবে স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখান অন্য পড়ুয়াদের অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এর পর বিকেলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তিন জনকে।
সূত্রের খবর, আয়ুষের ভাইও ওই স্কুলেই পড়ে। দুই ছেলের ছুটি হয় ১০ মিনিটের তফাতে। সে সময়ই পরিবার জানতে পারে, আয়ুষ অসুস্থ পড়েছে। তাঁরা গিয়ে দেখেন ছেলে আচ্ছন্ন। মাথার একটি অংশ ফুলে গিয়েছে।
অভিযোগ, দীর্ঘ ক্ষণ আয়ুষকে গরমের মধ্যে মাথা নিচু করে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। তাতেই অসুস্থ বোধ করে সে। ১১টা ৫০ নাগাদ স্কুল ছুটির সময় ভারী ব্যাগ পিঠে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে যায় আয়ুষ।