গত কয়েক বছরে বদলে গিয়েছে কাজের ধরন, বদলেছে ইন্টারভিউ বোর্ডে নিয়োগ কর্তাদের প্রশ্নের ধরনও। প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার থেকেও এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কর্মদক্ষতা এবং অভিজ্ঞতাকে। প্রার্থী কোন বিষয়ে কতটা দক্ষ— যাচাই করার জন্য পরীক্ষাও নিয়ে থাকে বহু সংস্থা। তাই চাকরির দুনিয়ায় কিংবা ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করার জন্য পোক্ত পোর্টফোলিও থাকা আবশ্যক।
কলেজ স্তরেই শুরু প্রস্তুতি:
পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাই শুধু সিভি নয়, দরকার ভাল পোর্টফোলিও— যা পড়ুয়াদের কাজের দক্ষতা সম্পর্কে সমস্ত তথ্য একই সঙ্গে নিয়োগকর্তার কাছে পৌঁছে দেবে। স্নাতক স্তরের পড়াশোনার সঙ্গেই পড়ুয়াদের নিজেদের বুঝে নিতে হবে কোন কাজ তাঁরা কেমন ভাবে করছেন? তা বুঝে নিতে পারলে নথিবদ্ধ করা সহজ।
কী ভাবে নথিবদ্ধ করতে হবে?
- ক্লাসরুমের বাইরে কোনও বিষয় শেখার সুযোগ মেলে অনেক সময়ই। সে ক্ষেত্রে কী কী বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করলেন, তাতে কোন দক্ষতা বৃদ্ধি পেল— সেই সমস্ত কিছুই লিখে রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কী ধরনের প্রকল্পে কাজ করেছেন, কতজনের সঙ্গে কাজ করেছেন, তা-ও নথিবদ্ধ করে রাখতে হবে।
- এ ছাড়াও কলেজের কোনও প্রকল্পের কাজে গবেষণার জন্য পড়ুয়া কোন পদ্ধতি অবলম্বন করছেন? তাতে কতটা সময় তাঁরা বাঁচাতে পারলেন? অতিরিক্ত সময় থাকলে আর পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলে আরও কোনও বিষয়ভাবনা প্রকাশ করতে পারছেন কিনা? এই বিষয়গুলি থেকেও নিজের দক্ষতা এবং কাজের ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট হয়। সেই সমস্ত ভাবনাও পড়ুয়ারা লিখে রাখতে পারেন।
- অর্থাৎ কোডিং, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ়, কন্টেন্ট তৈরি করা ছাড়াও দলবদ্ধ ভাবে কাজ করতে পারা, সময়ের মধ্যে জটিল সমস্যার সহজ সমাধান করা, দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে তার রিপোর্ট তৈরি করতে পারার মতো বিষয়গুলিও পোর্টফোলিও-য় রাখা যেতে পারে। এতে পরবর্তীতে ফ্রিল্যান্সিং, ইন্টার্নশিপ বা এন্ট্রি লেভেল চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার মেলে।
- এ ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার জন্য ভলেন্টায়ারিং, কিংবা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচিতে যোগদানের কথাও উল্লেখ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওই সমস্ত কাজে কী ধরনের সফ্ট স্কিলের প্রদর্শন করেছেন, তা লিখতে হবে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম:
ইঞ্জিনিয়ারিং, কলা, বিজ্ঞান, ম্যানেজমেন্ট— প্রতিটি শাখার পড়ুয়াদের জন্য আলাদা বিভাগে কাজের চাহিদা থাকে। বিভিন্ন সংস্থার ওয়েবসাইটে গিয়ে পদের নিরিখে কেমন পোর্টফোলিও তৈরি করা উচিত তা-ও জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
কোন বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে?
যে সমস্ত কাজের অভিজ্ঞতা বা দক্ষতার উল্লেখ পোর্টফোলিও-তে থাকছে, তার উপযুক্ত শংসাপত্রও থাকা চাই। প্রকল্পের ভাবনা মৌলিক হওয়া প্রয়োজন। কাজের ফলাফল আশাব্যঞ্জক না হলে, তার উল্লেখ পোর্টফোলিওতে প্রয়োজন নেই।
এ ক্ষেত্রে বলে রাখা দরকার, জীবনপঞ্জি কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য জানতে সাহায্য করে। পোর্টফোলিও সেই অভিজ্ঞতা কোন দক্ষতা বা প্রকল্পের জোরে প্রার্থী অর্জন করেছেন, তার রূপরেখা তুলে ধরে। তাই বিশদ তথ্য ছাড়া পোর্টফোলিও তৈরি করা যাবে না।