প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকের সরকারি বইয়ে অজস্র ভুল। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই ওড়িশা সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। ত্রুটির কথা স্বীকার করলেও নতুন করে বই ছাপিয়ে এখন আর পাল্টে দেওয়া সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এ দিকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ওড়িয়া অস্মিতা’র স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকার এখন ওড়িয়া ভাষা ও ওড়িশার ঐতিহ্যকে অপমান করছে কী ভাবে?
সম্প্রতি জানা গিয়েছে ওড়িশার প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকের পাঠ্যবইয়ে আইজ্যাক নিউটনকে বিশ্বমানের পাইলট হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজধানী হাম্পির ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে কোণার্ক মন্দির। ওড়িশার বিধানসভার জায়গায় ছাপানো হয়েছে কর্নাটকের বিধানসভার ছবি। একে ‘মুদ্রণ প্রমাদ’ হিসাবেই ব্যাখ্যা করেছিলেন ওড়িশার রাজ্যের স্কুল ও গণশিক্ষামন্ত্রী নিত্যানন্দ গোন্ড।
কিন্তু সেই ত্রুটি শুধরে নেওয়ার কোনও প্রয়াস এখনও দেখা যায়নি। বরং সরকারি ভাবে দাবি করা হয়েছে, বইয়ে থাকা সব ভুল ক্লাসে ক্লাসে গিয়ে শুধরে দিতে হবে শিক্ষকদের। তাঁরাই পড়ানোর সময় ছাত্রছাত্রীদের বুঝিয়ে দেবেন কোথায়, কী ভুল ছাপানো হয়েছে। ওড়িশা সরকার জানিয়েছে, নতুন করে পাঠ্যবই ছাপানো সম্ভব নয়। প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা নতুন বই পাবেন ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে। সেখানে ভ্রম সংশোধন করে নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
স্টেট কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-এর (এসসিইআরটি) অধিকর্তা মধুমিতা সাহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওই বই রাজ্যের সব পড়ুয়ার হাতে পৌঁছে গিয়েছে। তাই এখন তা ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। অধিকর্তা বলেন, “শিক্ষকেরা বইয়ের ত্রুটি সংশোধন করে প্রাথমিকের পড়ুয়াদের সঠিক বিষয়গুলি শেখাবেন। উচ্চ প্রাথমিকের ক্ষেত্রে পড়ুয়ারা নিজেই ভুলগুলি সংশোধন করে নিতে পারবে। এতে তাদের শেখার আগ্রহও বাড়বে।”
পাঠ্যবই অনেক দেরি করে পড়ুয়াদের হাতে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল আগেই। তার পর দেখা যায় পাঠ্য বিষয়েও অজস্র ভুল রয়ে গিয়েছে। ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা নবীন পট্টনায়ক রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, “সময় মতো বই পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেনি সরকার। যখন বই মিলল, তাতেও অজস্র ভুল। সরকারের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও উদাসীন মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে।” তিনি দাবি করেছেন, ‘ওড়িয়া অস্মিতা’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর ওড়িয়া ভাষা এবং রাজ্যের ঐতিহ্যের অবমাননা করা হচ্ছে নানা ভাবে। এ ঘটনা ক্ষমার অযোগ্য। রাজ্যের শিক্ষার মান উন্নত করতে দ্রুত নির্ভুল পাঠ্যপুস্তকের ব্যবস্থা করতে হবে সরকারি উদ্যোগে, দাবি করেছেন নবীন।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। কী ভাবে এই ধরনের ভ্রান্ত বিষয়বস্তু ছাপানো হল, কারা মূল অভিযুক্ত, সেই সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে। পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।