Advertisement
E-Paper

হিজাব কাণ্ডে অভিযোগের তির ঘুরল মনোজিতের দিকে!‌ যাদবপুরে রিপোর্ট দিল তথ্যানুসন্ধান কমিটি

রিপোর্টে মনোজিৎ মণ্ডলের নাম থাকায় তাকে ইসি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এত দিন তিনি ওই বিশেষ কমিটিতে সরকার মনোনীত সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন। বৃহস্পতিবার সরকার মনোনীত সদস্য হিসেবে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌতম পাল যোগ দেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:২৫
নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব চিত্র।

বিভাগীয় প্রধান শাশ্বতী হালদার রেহাই পেলেও, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় হিজাব কাণ্ডে অভিযুক্ত হিসাবে চিহ্নিত হলেন আর এক শিক্ষক। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত তথ্যানুসন্ধান কমিটি মুখ বন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দেয় উপাচার্যের কাছে। সেখানেই উল্লেখ করা হয়েছে ইংরেজির শিক্ষক মনোজিৎ মণ্ডলের নাম। তার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজ়িকিউটি কাউন্সিল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

গত ডিসেম্বরে ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পঞ্চম সেমেস্টারের পরীক্ষা ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক। অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ ওঠে পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। পাল্টা দুই ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছাত্রীর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলার সময় তাঁদের ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শাশ্বতী হালদারের বিরুদ্ধে। এর পরই তদন্ত শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত বিশেষ কমিটি। এক মাসের মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিয়েছে তারা।

রিপোর্টে মনোজিৎ মণ্ডলের নাম থাকায় তাকে ইসি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এত দিন তিনি ওই বিশেষ কমিটিতে সরকার মনোনীত সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন। বৃহস্পতিবার সরকার মনোনীত সদস্য হিসেবে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌতম পাল যোগ দেন। গোটা ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র বলেই মনে করছেন মনোজিৎ।

তাঁর দাবি, “এটি একটি চক্রান্ত। আমাকে কেন সরানো হল তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই কারও কাছে। তদন্ত কমিটি যে ভাবে আমার নাম করেছে, তা কোন‌ও ভাবেই ঠিক নয়। আসলে বিভাগীয় প্রধানকে অপমান করা হয়েছে। তিনি আমার কথায় কাজ করেছেন এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, পাঁচ সদস্যের কমিটি যে রিপোর্ট দিয়েছে, সেখানে গোটা ঘটনায় কোনও সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য ছিল না বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে। কমিটির সদস্যেরা মনে করছেন এই ধরনের আচরণ ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতেরই শামিল। যদিও কমিটির এক সদস্য মাসুম আখতার ভিন্ন মত পোষণ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

তথ্যানুসন্ধান কমিটির সদস্যেরা শাশ্বতী হালদারের সামনেই কয়েকজন গবেষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানেই বিভাগের শিক্ষক মনোজিৎ মণ্ডলের নাম উঠে এসেছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। দাবি, মনোজিৎ এই দুই ছাত্রীকে তল্লাশি করতে বলেছিলেন। এ বিষয়ে কমিটির কোন সদস্যের দ্বিমত নেই।

এর আগে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের সঙ্গে মনোজিতের কথোপকথনের একটি টেপ প্রকাশ্যে আসে। সে বিষয়টির উল্লেখ করে মনোজিৎ দাবি করেন ক্রমাগত তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। যদিও বৃহস্পতিবার এ প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য করতে চাননি উপাচার্য। চিরঞ্জীব বলেন, “অসুস্থতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় উপস্থিত ছিলাম না। তাই রিপোর্ট এখনও হাতে পাইনি। তবে শুনেছি মনোজিৎকে ইসি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পড়ে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করব।”

উল্লেখ্য, ছাত্রদের কাছ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করেছে তথ্যানুসন্ধান কমিটি। বেশ কিছু সুপারিশও করেছে তারা। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-পড়ুয়াদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করার কথা জানানো হয়েছে। যে দুই ছাত্রীকে ঘিরে এই বিতর্ক তাঁরা যেন আর কোনও সমস্যায় না পড়েন বা এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে। পাশাপাশি লিঙ্গ ও ধর্ম সংবেদনশীলতা নিয়ে কর্মশালা ও আলোচনাসভা আয়জনেরও উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।

Jadavpur University Hijab Row
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy