দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন, বিরোধীদের একের পর এক আক্রমণ শুনেও চুপ করেছিল সিবিএসই। এ বার তাদের জবাব দিতে হবে কেন্দ্রের কাছে। কারণ, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক জানতে চেয়েছে, সিবিএসই দ্বাদশের পরীক্ষার খাতা দেখার অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম)পদ্ধতিতে সত্যিই কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না?
শিক্ষামন্ত্রকের তরফে এ ব্যাপারে সোমবার রাতেই রিপোর্ট তলব করা হয়েছে সিবিএসই বোর্ডের কাছে। শিক্ষামন্ত্রকের দফতর সূত্রে খবর, এ সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য একটি আভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানও শুরু করা হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে সিবিএসই দ্বাদশের পরীক্ষার খাতা দেখার পদ্ধতিতে অনিয়মের অভিযোগ জমতে জমতে পাহাড় প্রমাণ হয়েছে। ওএসএম পদ্ধতিতে খাতা দেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ‘কো এম্পট এডুটেক’-এর বরাত পাওয়া নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তো ছিলই। তার পাশাপাশি সিবিএসই বিরুদ্ধেও খাতা দেখার পদ্ধতিগত মান নামিয়ে আনার অভিযোগ করেছিলেন পরীক্ষার্থীরা। তারা বলেছিলেন, সিবিএসই-র ছাড়পত্রের দৌলতে দ্বাদশের পরীক্ষার্থীদের খাতা মোবাইলেও স্ক্যান করা হয়। শুধু একটি সংস্থাকে বরাত পাইয়ে দেওয়ার জন্যই পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে আপোস করেছে বোর্ড— এই অভিযোগও ওঠে। যদিও সিবিএসই ১৩ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সে সব অভিযোগ অস্বীকার করা ছাড়া কোও ব্যাখ্যা দেয়নি। এমনকি, পরীক্ষার্থীদের দেওয়া নানা প্রমাণের জবাবও দেয়নি।
সরকারি ওয়েবসাইটেই সিবিএসই-র দেওয়া একাধিক টেন্ডারের বয়ান মিলিয়ে এবং অনলাইনে প্রকাশ্যে আসা পরীক্ষার খাতার স্ক্যানড কপি চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সিবিএসই বোর্ডের বিরুদ্ধে একরকম তদন্তই শুরু করে ছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পরীক্ষার্থীরা। তাতেই দেখা যায়, খাতা দেখার বরাত দেওয়ার টেন্ডারে সিবিএসই রোবোটচালিত স্ক্যানারের বদলে যেকোনও স্ক্যানারে পরীক্ষার খাতা স্ক্যান করার ছাড়পত্র দিয়েছে। এমনকি, খাতার স্ক্যানড কপির ছবির মান ৩০০ ডিপিআই থেকে কমিয়ে ২০০ ডিপিআই করা হয় শেষ বারে ডাকা টেন্ডারে।
ছাত্ররা ওই সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে এনে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে, তবে কি ওই একটি বিশেষ সংস্থাকে বরাত পাইয়ে দেওয়ার জন্যই এত কিছু করেছে সিবিএসই? বোর্ড কি তবে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা একেবারেই ভাবেনি। এই প্রশ্নে পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সুর মিলিয়েছে বিরোধীরাও। তার পরেও কেন্দ্রের তরফে ওএসএম বিতর্কে মে মাস পর্যন্ত কোনও তদন্ত কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। সিবিএসই-র কাছে করা হয়নি জবাব দিহিও। অবশেষে জুনের প্রথম দিনে এ ব্যাপারে রিপোর্ট চাওয়া হল সিবিএসই বোর্ডের কাছে।