Advertisement
E-Paper

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপনে হাজিরা কম যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষোভ বিধায়কের

২০ জুন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপনে যোগ দিয়েছিলেন প্রাক্তন অধ্যাপক তথাগত রায়, ছিলেন এ দিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজ় এর অধিকর্তা স্বরূপপ্রসাদ ঘোষ। ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামের অর্ধেকেরও বেশি আসন ছিল ফাঁকা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১৯:৫১
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন। নিজস্ব চিত্র।

সরকারি নির্দেশ মেনে শনিবার, ২০ জুন রাজ্যের প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সরিয়ে রেখে কোথাও উঠে এল বাঙালির ইতিহাস, কোথাও ইতিহাসের বাঙালি।

শুক্রবার, ১৯ জুন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পালন করেছিল বিশেষ দিনটি। কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে আশুতোষ শতবার্ষিকী সভাঘরে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। প্রেক্ষাগৃহ ছিল প্রায় পূর্ণ, যোগ দিয়েছিলেন শিক্ষক, অধ্যাপক, কর্মী-আধিকারিক এবং পড়ুয়ারা। কিন্তু ব্যতিক্রমী চিত্র ধরা পড়ল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শনিবারের অনুষ্ঠানে।

২০ জুন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপনে যোগ দিয়েছিলেন প্রাক্তন অধ্যাপক তথাগত রায়, এ দিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজ় এর অধিকর্তা স্বরূপপ্রসাদ ঘোষ। ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামের অর্ধেকেরও বেশি আসন ছিল ফাঁকা। তা দেখে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতেই স্বরূপপ্রসাদ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করবার জন্য সরকার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু সভাগৃহে উপস্থিতি দেখেই বোঝা যাচ্ছে এটা আপনারা মনে নেননি, মেনে নিয়েছেন। মনে নেওয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়। মেনে নেওয়া দীর্ঘস্থায়ী হয় না।’’ বিশেষ এই দিনটি সম্পর্কে নিজের মনোভাব ব্যক্ত করেন তথাগত রায়ও। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদানের প্রসঙ্গ। যদিও কেন পড়ুয়া ও শিক্ষক-আধিকারিকদের যোগদানের হার কেন এত কম, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি উপাচার্য।

দেশভাগের ইতিহাস প্রায় ৭৯ বছরের। ১৯৪৭-এর ২০ জুন অখণ্ড বাংলার বিধানসভায় পাশ হয়েছিল বাংলা ভাগের বিল। সে দিনটিকেই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসাবে পালন করা হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই প্রেক্ষিতেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই দিবস পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

১৯৪৭ সালের ২০ জুন কোন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে এই রাজ্যের আত্মপ্রকাশ এবং ভারতে অন্তর্ভুক্তি— তা পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরাই ছিল এ দিনটি পালনের উদ্দেশ্য। বাংলার রেঁনেসা থেকে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন এবং দেশভাগের পরে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের জীবনচর্চাও উঠে আসে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচনায়। ‘ইন্টেলেকচুয়াল হিস্ট্রি অফ বেঙ্গল ইন দ্য কনটেক্সট অফ ন্যাশনালিজ়ম’ শীর্ষক বক্তৃতায় দেশভাগের পাশাপাশি বঙ্গভঙ্গ এবং বাংলা নবজাগরণের ইতিহাস সকলের সামনে তুলে ধরেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ চেয়ার প্রফেসর অমিত দে। তিনি বলেন, “দেশভাগের পরে হিন্দু-মুসলিম জাতিধর্ম নির্বিশেষে অনেকেই নিজেদের পশ্চিমবঙ্গবাসী এবং ভারতীয় হিসেবেই মনে করেছেন। তাঁরা কোনও দিন ভারত ছেড়ে যাননি।”

এ রাজ্যের বাসিন্দা, তাঁদের পোশাক, খাদ্যাভ্যাস থেকে বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিচর্চার ইতিহাস তুলে ধরা হয় দক্ষিণ কলকাতার যোগমায়াদেবী কলেজে। ‘বাঙালির জাতিসত্তা ও বাংলাভাষার উৎস সন্ধান’ এবং ‘বাংলা তথা পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিবর্তন’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন কলেজ শিক্ষকেরা। উঠে আসে শ্যামাপ্রসাদের অবদান প্রসঙ্গও। ছাত্রীদের মধ্যে পোস্টার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল ওই কলেজে।

দমদমের নারায়ণ দাস বাঙ্গুর মেমোরিয়াল মাল্টিপারপাস স্কুলেও যোগ দেয় খুদে পড়ুয়ারাও।

দমদমের নারায়ণ দাস বাঙ্গুর মেমোরিয়াল মাল্টিপারপাস স্কুলেও যোগ দেয় খুদে পড়ুয়ারাও।

রাজ্যের স্কুলগুলিতে নানা প্রতিযোগিতার মাধ্যমেও উদ্‌যাপন করা হয় পশ্চিমবঙ্গ দিবস। যাদবপুরের আদর্শ বালিকা শিক্ষায়তন, যাদবপুর বিদ্যাপীঠ, দমদমের নারায়ণ দাস বাঙ্গুর মেমোরিয়াল মাল্টিপারপাস স্কুল-সহ বিভিন্ন স্কুলে কুইজ, আঁকা সহ নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়। যাদবপুরের আদর্শ বালিকা শিক্ষায়তনের প্রধানশিক্ষিকা শ্বাশতী গোস্বামী মৈত্র বলেন, ‘‘কুইজ, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা সহ নানা কাজের মধ্যে দিয়ে আজকের দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে পড়ুয়াদের সচেতন করা হয়।’’

যাদবপুর বিদ্যাপীঠে চলছে স্বচ্ছতার অভিযান।

যাদবপুর বিদ্যাপীঠে চলছে স্বচ্ছতার অভিযান।

যাদবপুরের আদর্শ বালিকা শিক্ষায়তনে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ছাত্রীরা।

যাদবপুরের আদর্শ বালিকা শিক্ষায়তনে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ছাত্রীরা।

এ দিকে, সূত্রের খবর কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অনুপম বিশ্বাস। তিনি বলেন, “আমার ভেবেই খারাপ লাগছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কোনও ছবি নেই! পশ্চিমবঙ্গের আত্মপ্রকাশে যাঁর গুরুত্ব অপরিসীম।’’ এই বিষয়ে পরে কথা বলার জন্য পরে বার বার ফোন করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কল্লোল পাল এ দিন বলেন, ‘‘ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-সহ বিভিন্ন মনীষীদের বড় প্রতিকৃতি গোটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসানোর প্রস্তুতি আগেই নেওয়া হয়েছে। সেই কাজ ইতিমধ্যে চলছে। কিছু কাজ বাকি রয়েছে। দ্রুত মনীষীদের ছবি বসিয়ে দেওয়া হবে।’’

রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের ভাবধারায় গঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ইউনিট রয়েছে সেখানে সাংগঠনিক ভাবে আমরা এই দিবস উদযাপনে যুক্ত হয়েছি।’’

University of Jadavpur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy