পরিস্থিতি আঁচ করা গিয়েছিল আগেই, বাস্তবেও প্রায় সেই চিত্রই ফুটে উঠল। দু’বছরের স্নাতকোত্তরে ভর্তির আবেদন ছুঁতে পারল না প্রত্যাশিত মাত্রা।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ জারি হওয়ার পরে এই প্রথম স্নাতকের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা হচ্ছে। এই নতুন পদ্ধতিতে এই প্রথম দু’বছরের স্নাতকোত্তর স্তরের ভর্তি নিচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। আগেই শিক্ষকদের একাংশ আশঙ্কা করেছিলেন, চার বছরের স্নাতক চালু হওয়ার পরে দু’বছরের স্নাতকোত্তরে আগ্রহ হারাবেন পড়ুয়ারা। যদিও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে দু’বছরের স্নাতকোত্তরে ভর্তি নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু আবেদনের সংখ্যা কপালে ভাঁজ ফেলেছে কর্তৃপক্ষের।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, নতুন নিয়মে এ বার প্রথম দু’বছরের স্নাতকোত্তরের ভর্তি। সে কারণে পড়ুয়াদের কিছুটা ছাড় দিতে ষষ্ঠ সেমেস্টারের বদলে পঞ্চম সেমেস্টারে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই ভর্তি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এমনকি ষষ্ঠ সেসেস্টার পরীক্ষা দেওয়ার আগেই স্নাতকোত্তরে ভর্তির আবেদনের ব্যবস্থা করেছিলেন কর্তৃপক্ষ। কারণ, চার বছরের অনার্স বা অনার্স উইথ রিসার্চ কোর্সের বদলে দু’বছরের স্নাতকোত্তরে ভর্তি হওয়ার প্রবণতা কমবে, এমন আঁচ আগেই পাওয়া গিয়েছিল। বাণিজ্য ও কলা বিভাগে সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা জানান, নিজস্ব ক্যাম্পাসে এবং বিভিন্ন কলেজে স্নাতকোত্তর পড়ানো হয়। ভর্তির সমগ্র বিষয়টাই নিয়ন্ত্রণ করছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে দেখা গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান বিভাগেই একমাত্র মোট আসনের থেকে বেশি আবেদন পড়েছে। কলা ও বাণিজ্য বিভাগের অধিকাংশ বিষয়েই আবেদনের সংখ্যা মোট আসনের থেকেও কম। কলেজের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোথাও মোট আসনের থেকে বেশি আবেদনই পড়েনি। ফলে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে প্রবেশিকা পরীক্ষার যৌক্তিকতা নিয়েই।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ জুন আবেদন করার শেষ দিন। এ ক্ষেত্রে কলা বিভাগের এক মাত্র ইংরেজি ও সাংবাদিকতা বিভাগে মোট আসনের থেকে বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ইংরেজিতে মোট আসনের সংখ্যা ২৪৫ এবং সাংবাদিকতায় ৬০। অন্য বিষয়ের তুলনায় এই সংখ্যা অনেকটাই বেশি। ফলে এ ক্ষেত্রে প্রবেশিকা নিতেই হবে। কিন্তু অন্যত্র সেই চিত্র নয়।
বাণিজ্যে দিবা ও সান্ধ্য বিভাগ মিলিয়ে ৪১৯ করে মোট ৮৩৮টি আসন রয়েছে। কিন্তু আবেদন পড়েছে অনেক কম। মোট শূন্য আসনের ৬০ শতাংশ রয়েছে অভ্যন্তরীণ পড়ুয়াদের জন্য। পঞ্চম সেমেস্টার পর্যন্ত প্রাপ্ত নম্বর এবং প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়ার নিয়ম চালু রয়েছে।
বিজ্ঞানে ভর্তির আবেদন আশানুরূপ হলেও কলা ও বাণিজ্যের এই চিত্র কেন?
শিক্ষকদের একাংশ মনে করছেন বর্তমান প্রজন্মের পড়ুয়াদের মধ্যে চাকরি পাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তাই, যে বিষয়গুলি সেই চাহিদা পূরণ করতে পারবে, সেগুলিতেই উচ্চ শিক্ষার আগ্রহ রয়েছে। বাকিগুলিতে নেই। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন কুটার সাধারণ সম্পাদক সাগরময় ঘোষ বলেন, “প্রধানত ইংরেজি ও সাংবাদিকতা এমন দু’টি বিষয় যেখানে স্নাতকোত্তরের পর ভাল চাকরির সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তিন বছর স্মাতকের পরে কলা বিভাগের অন্য বিষয়ে সুযোগ কমে আসছে। বোধ হয় সে কারণেই এই চিত্র।’’
তবে এর পাশাপাশি চার বছরের অনার্স উইথ রিসার্চ আর তিন বছরের স্নাতক ও দু’বছরের স্নাতকোত্তরেল মূল্য চাকরি ক্ষেত্রে একই কিনা সেটা পড়ুয়াদের কাছে পরিষ্কার নয়, এমনই মনে করছে শিক্ষামহল। ফলে তাঁদের কাছে মনে হচ্ছে এখনই স্নাতকোত্তর না করে আগে অনার্স করে নেওয়াটাই শ্রেয়।
কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কী করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ? বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা জানান যে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেই সবটা করা হবে।