Advertisement
E-Paper

গ্রীষ্মের ছুটির পরও খুলল না স্কুল! বাঁশদ্রোণীতে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার তদন্ত নিয়ে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

১৫ জুন, সোমবার স্কুল খোলার কথা ছিল গ্রীষ্মাবকাশের পর। কিন্তু স্কুল খোলেনি নির্দিষ্ট দিনে। সূত্রের খবর, রবিবার রাতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়ে দেওয়া হয়, আরও এক সপ্তাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে স্কুল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ১৮:১০

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

এক মাস গ্রীষ্মের ছুটি কাটিয়েও নির্দিষ্ট দিনে খুলল না বাঁশদ্রোণীর সেই বেসরকারি স্কুল।

গত মাসে স্কুলের ভিতরেই ঘটে গিয়েছিল দুর্ঘটনা। স্কুলের গাফিলতিতে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। ছাত্রমৃত্যুর পরই বিক্ষোভে বসেছিলেন অভিভাবকেরা। মৃতের পরিবার ইতিমধ্যে দেখা করেছে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। সোমবার মৃত ছাত্রের বাবা আশিস নাথ বলেন, ‘‘পুলিশ কোনও রকম ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে উনি বিষয়টা দেখবেন।’’ ১৫ জুন, সোমবার স্কুল খোলার কথা ছিল গ্রীষ্মাবকাশের পর। কিন্তু স্কুল খোলেনি নির্দিষ্ট দিনে।

সূত্রের খবর, রবিবার রাতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়ে দেওয়া হয়, আরও এক সপ্তাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে স্কুল। কারণ হিসাবে জানানো হয়, স্কুল পরিষ্কার করার কথা। যদিও এই যুক্তি মানতে নারাজ অভিভাবকদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, গত এক মাস স্কুল বন্ধ ছিল। সে সময়ের মধ্যে স্কুল পরিষ্কার করা গেল না? কেন আরও এক সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে? তাঁদের অভিযোগ, আসলে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার অভিঘাতেই খানিকটা কালক্ষেপ করতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ।

মৃত বালক আয়ুষকুমার নাথের বাবা আশিস দাবি করেন, স্কুলের গাফিলতি না থাকলে তাঁর আট বছরের ছেলেকে এ ভাবে চলে যেতে হত না। তাঁর অভিযোগ, গত ১৩ মে বাঁশদ্রোণী এলাকার ওই বেসরকারি স্কুলে সকাল পৌনে ৮টা নাগাদ পৌঁছোয় তাঁর সন্তান। তার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে বছর আটেকের আয়ুষ। অভিযোগ, ক্লাস চলাকালীন শিক্ষিকাকে সে কথা জানালেও কোনও লাভ হয়নি। তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং আয়ুষকে মাথা নিচু করে বসতে বলেন শ্রেণিশিক্ষিকা।

গোটা সময়টাই আয়ুষ সে ভাবে বসে থাকে। ছুটির পর সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে যায়, চোট লাগে গুরুতর। স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখান থেকে পরিবারের লোকজন এসএসকেএম-এ ভর্তি করান। প্রায় ১০ দিন অচৈতন্য থাকার পর ২৪মে রবিবার মৃত্যু হয় ওই বালকের। আয়ুষের বাবা সোমবারও জানান, তাঁরা যখন সন্তানকে দেখতে পান তখন বেলা ১২টা বেজে গিয়েছে। অর্থাৎ চার ঘণ্টা ওই শিশু অসুস্থ অবস্থাতেই ছিল। সেই সময়ে যদি পরিবারের লোককে জানানো হত তা হলে আয়ুষকে বাঁচানো যেত।

এই ঘটনার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন অভিভাবকদের একাংশ। ২৮ মে বৃহস্পতিবার সারা দিন বিক্ষোভ চলে। একই সঙ্গে চলে রাস্তা অবরোধও। অবশেষে রাত ১২টা নাগাদ পুলিশ লাঠিচার্জ করে অবস্থান তুলে দেয়। অভিভাবকদের কয়েক জনকে গ্রেফতার করে। পরে তাঁরা জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।

এরই মধ্যে এ বিষয়ে আশিস বলেন, ‘‘পুলিশ ওই বিক্ষোভের তদন্ত নিয়েই ব্যস্ত। আমার ছেলের মৃত্যুর তদন্ত আদৌ কি হচ্ছে? বুঝতে পারছি না।” তিনি অভিযোগ করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় থানা ও লালবাজারেও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। যদিও পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল যে, তদন্তকারী অফিসারকে বদল করা হয়েছে। তদন্তও চলছে। এরই মধ্যে গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে যায় মৃত বালকের পরিবার। উপযুক্ত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে বলে খবর। এক অভিভাবকের দাবি, স্কুল ইচ্ছে করেই একটু সময় নিচ্ছে। যে ঘটনা ঘটেছে তার বিহিত না হওয়া পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ চাপে তো থাকবেনই।

Schools
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy