পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করতে হবে রাজ্যে সব স্কুল-কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে, শুধু পালন করলেই হবে না। উদ্যাপন সংক্রান্ত রিপোর্ট এবং ছবি পাঠাতে হবে স্কুলশিক্ষা দফতরে। জানা গিয়েছে, এমন নির্দেশিকা পৌঁছেছে স্কুলগুলিতে।
দেশভাগের ইতিহাস প্রায় ৭৯ বছরের। ১৯৪৭-এর ২০ জুন অখণ্ড বাংলার বিধানসভায় পাশ হয়েছিল বাংলা ভাগের বিল। সে দিনটিকেই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসাবে পালন করা হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত সপ্তাহেই সাড়ম্বরে দিনটি উদ্যাপনের নির্দেশিকা জারি হয়েছে নবান্নের তরফে। স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদের নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের ইতিহাস সচেতন করে তোলাই এর উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
২০২৩ থেকে রাজ্যের লোকভবন থেকে এই দিনটি পালন করা হচ্ছে। যদিও সে সময় এই দিনটি পালনের বিরোধিতা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবর্তে তিনি ১ বৈশাখ, অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল ‘বাংলা দিবস’ পালন করতে শুরু করেছিলেন। ২০২৬ বিধানসভা ভোটে বদলেছে ক্ষমতার সমীকরণ। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি গঠন করেছে সরকার। তাই এ বার ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালিত হবে মহাসমারোহে। জানা গিয়েছে, ওই দিন রাজ্যে আসবেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী।
সব জেলার সদর দফতরে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই দিবস উদ্যাপনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সেই সূত্রেই সব জেলার জেলাস্কুল পরিদর্শকদের জানানো হয়েছে যে আগামী ২৫ জুনের মধ্যে এই বিষয়ে একটি রিপোর্ট পাঠাতে হবে। এই দিবস উপলক্ষ্যে স্কুলে প্রবন্ধ রচনার প্রতিযোগিতা বা বিতর্ক সভা এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে বলা হয়েছে। এই দিবস পালনে পড়ুয়া, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের যোগদানের ছবিও পাঠাতে হবে স্কুলশিক্ষা দফতরে। পাশাপাশি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ভাবে সকলে মিলে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন ও তার সঙ্গে একটি রিপোর্ট পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে।
স্কুলের এক প্রধান শিক্ষক জানান, ইতিমধ্যে জেলাস্কুল পরিদর্শকদের থেকে বিজ্ঞপ্তি তাঁরা পেয়েছেন। আগামী শনিবার ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের জন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।