উদ্বৃত্ত শিক্ষকের তালিকা চেয়ে পাঠাল স্কুল শিক্ষা দফতর। দিন কয়েক আগে জেলার প্রাথমিক স্তরে ‘সারপ্লাস’ শিক্ষকের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। পড়ুয়া-শিক্ষক অনুপাত ঠিক রাখতেই এই উদ্যোগ বলে জানান দফতরের এক কর্তা।
রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে কোথাও পড়ুয়া রয়েছে, নেই শিক্ষক। আবার কোথাও নিয়মিত স্কুলে আসেন শিক্ষকেরা, দেখা মেলে না পড়ুয়ার। এমন অভিযোগ বার বার উঠেছে বিভিন্ন জেলায়। গত সপ্তাহেই দায়িত্ব নিয়েছেন স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। তার পরই তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন এ বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে।
যদিও এই তালিকা তৈরির বিষয়টি একেবারে নতুন নয় বলেই জানাচ্ছেন উত্তরবঙ্গের এক জেলা স্কুল পরিদর্শক। তিনি বলেন, “গত নভেম্বর থেকে এই কাজ শুরু হয়েছিল। তার পর থমকে গিয়েছিল। সেই সময় কোন কোন স্কুলে শিক্ষক নেই বা একজন রয়েছেন— সেই তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছিল।” তাঁর দাবি, সেই তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এ বার চাওয়া হয়েছে কোন কোন স্কুলে শিক্ষক উদ্বৃত্ত। অর্থাৎ পড়ুয়ার তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা বেশি।
মনে করা হচ্ছে, ওই তালিকা থেকে বাছাই করে উদ্বৃত্ত শিক্ষকদের অন্য স্কুলের দায়িত্ব দেওয়া হবে। দফতরের অন্য এক কর্তা জানান, প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে উদ্বৃত্ত শিক্ষকদের সংশ্লিষ্ট জেলারই অন্য স্কুলে, যেখানে শিক্ষকের অভাব, সেখানে বদলি করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিস্তর গোলমাল তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রতি ৩০ জন পড়ুয়ার জন্য ১ জন করে শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু কোন ক্লাসে কত পড়ুয়া, তা জানাও তো জরুরি। এক জন শিক্ষকের পক্ষে একাধিক ক্লাস করানো সম্ভব নয়।
দক্ষিণবঙ্গের এক জেলা স্কুল পরিদর্শক বলেন, ‘‘কলকাতা ও অন্য জেলার ক্ষেত্রে এই চিত্র কোনও ভাবেই এক রকম নয়। সে ক্ষেত্রে শিক্ষকদের তালিকা থেকে পড়ুয়াদের সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে তা বিচার করা হবে।’’ তবে এ বিষয়ে নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সোমবার থেকেই গোটা রাজ্যের সব সার্কেল অফিসে স্মারকলিপি দেওয়া শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল জানান, শিক্ষানীতি মেনে ৩০:১ হওয়ার কথা পড়ুয়া-শিক্ষক অনুপাত। কিন্তু রাজ্যের বহু জেলায় এই নীতি মেনে স্কুল চালাতে গেলে মারাত্মক ক্ষতি হবে পঠনপাঠনের। কারণ সব শ্রেণি মিলেয়ে ৩০ জন পড়ুয়া থাকলেও একজন শিক্ষকের পক্ষে স্কুল চালানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমাদের দাবি, শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের কথা ভাবুক সরকার। প্রতিটি স্কুলে নূন্যতম তিন জন শিক্ষক থাকা প্রয়োজন। না হলে এই সমস্যা মিটবে না।” এরই পাশাপাশি সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, অতিরিক্ত শিক্ষককে অন্যত্র স্থানান্তরিত করার আগে যেন তাঁকে সুবিধাজনক স্কুল বেছে নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়। তা ছাড়া উদ্বৃত্ত শিক্ষক বাছচাই করার ক্ষেত্রে সর্বশেষ যিনি কাজে যোগ দিয়েছেন তাঁকেই যেন বেছে নেওয়া হয়।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘সব স্কুলের মধ্যে শিক্ষক ও পড়ুয়ার অনুপাত ঠিক করা উচিত। কিন্তু সরকারি বা সরকারি পোষিত স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কেন কমছে এবং কী ভাবে সেটা বৃদ্ধি করা যায় সেটা নিয়েও কোনও পরিকল্পনা করুক সরকার। উদ্বৃত্ত শিক্ষকদের শুধু স্থানান্তরিত করনের মাধ্যমেই কিন্তু শিক্ষার চিত্রের পরিবর্তন হবে না।’’