Advertisement
E-Paper

হাত দিয়ে দরজা খোলার ঝক্কি নেই, সৌরশক্তিচালিত যন্ত্রই করবে সব! স্মার্ট শৌচালয় পেল পুরুলিয়ার স্কুল

পুরুলিয়ার দু’টি এবং ত্রিপুরার দু’টি স্কুলে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিচালিত স্মার্ট শৌচালয় তৈরি করেছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইআইইএসটি), শিবপুর।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫১
গ্রামের স্কুলে স্মার্ট শৌচালয় পেয়ে খুশি পড়ুয়ারা।

গ্রামের স্কুলে স্মার্ট শৌচালয় পেয়ে খুশি পড়ুয়ারা। ছবি: সংগৃহীত।

স্কুলের শৌচালয় থাকলেও নেই পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা। আবার কোথাও তা থাকলেও তাতে স্বাস্থ্য রক্ষা হয় না। অসুস্থ হয়ে পড়ে পড়ুয়ারা। তাই যাতে শৌচালয়ের দরজায় হাত দেওয়ার দরকারই না পড়ে, এমনই ব্যবস্থা করলেন একদল অধ্যাপক এবং গবেষকেরা।

তাঁরা সূর্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়েই পাম্প চালু করলেন, জল পৌঁছে দিলেন ট্যাঙ্কে। শৌচালয়ের দরজার সামনে পড়ুয়ারা গিয়ে দাঁড়ালেই তা খুলে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে চালু হয়ে যাচ্ছে ফ্যানও, যা রুখে দেবে দুর্গন্ধ। পরিবেশবান্ধব এই স্মার্ট শৌচালয়ের সুবিধা পেয়ে বেজায় খুশি পুরুলিয়ার দু’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে পড়ুয়ারা।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইআইইএসটি), শিবপুরের তরফে এই বিশেষ প্রকল্পটির প্রস্তাবনা ২০২১-এ কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক কনিকা দাস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, কেন্দ্রের তরফে ডিপার্টমেন্ট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ডিএসটি) ২০২৩ সালে ওই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়।

আর্থিক অনুদান পাওয়ার পর প্রথমে ত্রিপুরার ছনখোলা হাই স্কুলে এবং শেকেরকোট হাইস্কুলে স্মার্ট শৌচালয় তৈরি করা হয়। এর পর এই রাজ্যে পুরুলিয়ার তিলকা মুর্মু সেবা বন বিদ্যালয় এবং স্বামী বিবেকানন্দ শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে ছাত্র এবং ছাত্রীদের জন্য শৌচালয় তৈরির কাজ শুরু হয়। ২০২৬-এর ৩ ফেব্রুয়ারি পড়ুয়াদের ব্যবহারের জন্য ওই শৌচালয় খুলে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি আইআইইএসটি, শিবপুরের ক্যাম্পাসেও এমন শৌচালয় তৈরি করা হয়েছে।

নিজে নিজে দরজা খুলছে, শৌচালয় থেকে বেরিয়ে এলে আলো-পাখা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে— এসব দেখে বেজায় খুশি স্কুলের খুদে পড়ুয়ারা। স্বাস্থ্যসম্মত স্মার্ট শৌচালয় তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে শিক্ষাকর্মীরাও। পাশাপাশি, স্কুলের জলাধার থেকে স্থানীয়রাও যাতে জল নিতে পারেন, তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরও কিছু স্কুলে একই ভাবে এই প্রকল্পের কাজ করা হবে, জানিয়েছেন কনিকা।

এই প্রকল্পের কাজটি এনবি ইনস্টিটিউট ফর রুরাল টেকনোলজি (এনবিআইএআরটি) এবং একটি স্টার্টআপ সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চলছে। ওই সংস্থাগুলি সোলার প্যানেল, স্মার্ট লাইট-এর নকশা তৈরি এবং অন্যান্য সামগ্রী দেওয়ার কাজে সহায়তা করছে। স্টার্টআপ সংস্থার অধিকর্তা তথা আইআইইএসটি, শিবপুরের প্রাক্তনী জয়দীপ জানা বলেন, “আমরা একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে শৌচালয়ের সমস্ত যন্ত্রের উপর দূর থেকেই নজর রাখার ব্যবস্থা রেখেছি। কতক্ষণ ধরে আলো জ্বলবে, ফ্যান ঘুরবে কিংবা জলাধারে জল সঞ্চয়ের পরে পাম্প বন্ধ হচ্ছে— সবটাই ওই অ্যাপ থেকে জানা সম্ভব।”

তবে, প্রাথমিক পর্যায়ে ওই স্মার্ট শৌচালয়গুলিতে নিয়মিত নজরদারির জন্য আইআইইএসটি এবং অন্যান্য সংস্থার আধিকারিকেরা পরিদর্শন করলেও পরে রক্ষণাবেক্ষণের কাজটি সামলাবেন স্থানীয়রাই। এর জন্য তাঁদের আলাদা করে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে, জানিয়েছেন এনবিআইএআরটি-র রিসার্চ সায়েন্টিস্ট রিচিক ঘোষ ঠাকুর।

Solar powered pump Renewable energy IIEST Shibpur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy