গত তিন মাস বেতন হয়নি। ১৩ বছরে বাড়েনি বেতন, তৈরি হয়নি চাকরির নিশ্চয়তা। অথচ, নিয়মিত পড়াতে স্কুলে যান তাঁরা।
এ বার বেতনের দাবি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের কম্পালসারি স্কিল বিষয়ের শিক্ষকেরা বিকাশ ভবনে স্মারকলিপি দিলেন। বুধবার চাকরির স্থায়ীকরণের পাশাপাশি দ্রুত বেতন চালু করার দাবি তোলেন তাঁরা।
ইউনাইটেড পশ্চিমবঙ্গ এনএসকিউএফ ( ন্যাশনাল স্কিল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক) টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিরুপম কোলে জানান, ২০১৩ সালের পর দীর্ঘ ১৩ বছরে একবারও বেতন বৃদ্ধি হয়নি। তার উপরে গত ডিসেম্বর থেকে বেতন হয়নি। গোটা রাজ্যে ১৬০০-র বেশি স্কুলে পূর্ণসময়ের চুক্তিভিত্তিক প্রায় তিন হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন এই বৃত্তিমূলক শিক্ষায়। তাঁরা ক্লাস করাচ্ছেন, ছাত্রছাত্রীদের দক্ষ করে তুলছেন কিন্তু বেতন পাচ্ছেন না। দ্রুত এই অবস্থার পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
নিরুপম বলেন, “আমরা স্কুল শিক্ষা দফতরের স্কুলে শিক্ষকতা করছি। অথচ রাজ্য সরকার আমাদের নিয়ন্ত্রণের ভার কারিগরি শিক্ষা দফতরের হাতে দিয়েছে। সেখান থেকে তৃতীয় পক্ষের এক বেসরকারি সংস্থার হাতে আমাদের নিয়োগ ও বেতন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটা কর যায় না।” তাঁর দাবি, দেশের কোথাও এই নিয়ম নেই। শুধুমাত্র এই এ রাজ্যেই এমন অনিয়ম চলছে। তাই তাঁরা স্মারকলিপি দিয়ে দাবি তুলেছেন, তাঁদের দ্রুত স্কুল শিক্ষা দফতরের আওতাধীন করতে হবে।
অভিযোগ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বেতন হওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। নিরুপম বলেন, “গত তিন মাস বেতন হয়নি। মাত্র ১৫ হাজার টাকা বেতন, তা-ও যদি না পাওয়া যায়, আমরা বাঁচব কী করে?”
এ দিকে বুধবার বিকেলে ধর্মতলা থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত মিছিল করেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় হারে বকেয়া ৪০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা কার্যকরী করার দাবি-সহ সব স্তরের অনিয়মিত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও কর্মচারিদের নিয়মিতকরণের দাবি তুলে এই মিছিল। রাজ্যের প্রশাসনের শূন্যপদে নিয়োগের দাবিও তোলা হয় সেখানে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন , " সরকার যে ভাবে কর্মীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করছে সেটাকে ধিক্কার জানাই। "