Advertisement
E-Paper

ভোটের আবহে অশান্তি যাদবপুরে, ছাত্র সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে জখম বাংলার অধ্যাপক

সায়েন্স আর্টস মোড়ের কাছে ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে শুরু হয় বিবাদ। সেখানেই মধ্যস্থতা করতে গিয়ে জখম হয়েছেন দুই অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিংহ এবং ললিত মাধব।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:১৫
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি: সংগৃহীত।

আইসিসি নির্বাচন ঘিরে উত্তাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। দু’দল ছাত্রের সংঘর্ষে মধ্যে পড়ে জখম হলেন অধ্যাপক।

জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর উত্তাল অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি বা আইসিসি নির্বাচন ঘিরে। শুক্রবার বিকেলে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভায় যোগ দিয়েছিলেন পড়ুয়া-শিক্ষকেরা। তার পরই সায়েন্স-আর্টস মোড়ের কাছে ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে শুরু হয় বিবাদ। সেখানেই মধ্যস্থতা করতে গিয়ে জখম হয়েছেন দুই অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিংহ এবং ললিত মাধব।

জানা গিয়েছে, দুই অধ্যাপককেই পার্শ্ববর্তী এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য। ললিত মাধবকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও রাজ্যেশ্বরের আঘাত বেশি। তাঁর চোখে ঘুষি মারা হয়েছে। চশমার কাচ ভেঙে আঘাত লেগেছে নাকে। তাই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দু’দলের ৬ পড়ুয়াও জখম বলে জানা গিয়েছে।

হাসপাতাল থেকেই রাজ্যেশ্বর বলেন, “দুই দল ছাত্রের মধ্যে গোলমাল হচ্ছিল। সে সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্যই মধ্যস্থতা করতে গিয়েছিলাম। এই দু’দল ছাত্রের কেউই আমাকে আঘাত করেনি। বাইরে থেকে অন্য এক ছাত্র হঠাৎ এসে আমাকে মারধর করে।” অধ্যাপকের দাবি, বিবদমান ছাত্রেরাই আবার তাঁকে প্রাথমিক শুশ্রূষা করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, উই দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট (ডব্লিউটিআই) এবং এসএফআইয়ের মধ্যে গত কয়েক দিন ধরেই চাপানউতর চলছিল। এসএফআই সদস্য এক পড়ুয়ার দাবি, তাঁরা আইসিসি নির্বাচনের প্রচার চালাচ্ছিলেন। বিশেষত প্রথম বর্ষের পড়ুয়ারা এই নির্বাচনে সক্রিয় হয়েছে। সে বিষয়কে কেন্দ্র করেই গোলমাল চলছিল।

অভিযোগ, শুক্রবার প্রথম বর্ষের এসএফআই ছাত্রদের ডেকে হুমকি দিতে শুরু করেন ডব্লিউটিআই-এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়ারা। সেই সময় সেখানে উপস্থিত হন এসএফআইয়ের অন্য সদস্যেরা। উপস্থিত হন বেশি কয়েকজন শিক্ষক-অধ্যাপকও। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিংহ লক্ষ্য করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

এসএফআইয়ের তরফে দাবি করা হয়েছে, দর্শন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র উজান এবং সমাজবিদ্যার ছাত্র রূপম সিকদার এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত। যদিও ডব্লুটিআইয়ের তরফে কোনও বক্তব্য জানা যায়নি। উজানের বিরুদ্ধে এর আগেও বহু অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি।

সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে যাদবপুরের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, "আমার কাছে এ ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরল। শিক্ষক-শিক্ষিকারা ওখানে দৌড়ে গিয়েছেন ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে। সেখানে শিক্ষকদের মার খেতে হচ্ছে। এর থেকে দুর্ভাগ্যের আর কী হতে পারে!” সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি ঘিরে সংঘর্ষ নতুন নয়। কিন্তু এ ভাবে অধ্যাপক নিগ্রহের ঘটনা একেবারেই নজিরবিহীন বলে মনে করছেন শিক্ষকদের একাংশ। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন পার্থপ্রতিম বিশ্বাস বলেন, “গত এক দশকে এ ভাবে শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনা ঘটেনি যাদবপুরে। স্বাভাবিক ভাবেই ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের উপর এর প্রভাব পড়বে।”

Jadavpur University JU Mayhem JU Incident
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy