গত কয়েক বছর ধরেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ কলেজগুলিতে কমছে স্নাতক স্তরের পড়ুয়ার সংখ্যা। বিভিন্ন কলেজের একাধিক বিভাগে বহু আসন শূন্যও থাকছে। এই প্রবণতা ঠেকাতেই এ বারে খোলনলচে বদলে ফেলতে চাইছে বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা ব্যবস্থায় এবং পাঠ্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আনার কথা ভাবছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-কে মাথায় রেখে যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম চালুর ভাবনা রয়েছে তাঁদের। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সরকারি ও সরকারপোষিত প্রায় ১৬৬টি কলেজে নতুন পাঠ্যক্রম শুরু হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে কলেজ পরিদর্শন। কলেজগুলি যেন পড়ুয়াদের ভরসার স্থল হয়ে উঠতে পারে সে দিকেও নজর দিতে অধ্যক্ষদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে উত্তর, মধ্য, দক্ষিণ কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া-হুগলি, এই পাঁচটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে কলেজগুলিকে। কলেজ পরিদর্শক দীপ্তেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ইতিমধ্যে আমরা নিরন্তর কলেজ পরিদর্শন করছি। কোথায় পরিকাঠামোর কী অবস্থা, তা খতিয়ে দেখছি। পড়ুয়াদের কাছে কলজেগুলিকে ভরসার স্থল হয়ে উঠতে হবে। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্দেশ্য হচ্ছে পড়ুয়াদের লক্ষ্য স্থির করতে সাহায্য করা। জাতীয় শিক্ষানীতি মেনেই যুগপোযোগী পাঠ্যক্রম চালু করতে উদ্যোগী বিশ্ববিদ্যালয়।” তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের সঙ্গে পড়ুয়া এবং শিক্ষকের একটা সুন্দর যোগাযোগ তৈরির চেষ্টাও তাঁরা করছেন।
জানা গিয়েছে, বিভিন্ন কলেজে ‘ইনকিউবেশন সেন্টার’ চালু করা হবে। সে জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামোর প্রয়োজন। এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি চাকরি ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের যে সমস্ত দক্ষতা প্রয়োজন হয় তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই পাঠ্যক্রমের সংযোজন ও পরিবর্তন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বোর্ড অব স্টাডিজ-এ এই বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা।
পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে যাঁরা শিল্পোদ্যোগী হতে চান, তাঁদের জন্য ‘ইনকিউবেশন সেন্টার’-এর তরফে সাহায্য করা হবে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষদের উদ্যোগী হতে বলা হয়েছে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, “আগামী দিনে পড়ুয়াদের কেরিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে যে সব বিষয় ও পাঠ্যক্রম সাহায্য করবে সেগুলি আমরা ভাল ভাবে চালু করতে চলেছি। কলেজগুলিতে সে রকম পরিকাঠামো উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
যদিও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন কুটার সাধারণ সম্পাদক সাগরময় ঘোষ বলেন, “নতুন পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করতে যে অর্থের প্রয়োজন তা কোথা থেকে আসবে জানি না। রাজ্য বা কেন্দ্র সরকার, কোনও তরফেই অর্থসাহায্য মেলে না যথাযথ। তাই পরিকল্পনা করলেও তার বাস্তবায়ন আদৌ সম্ভব কি না সেটাই দেখার বিষয়।”