Advertisement
E-Paper

পড়া ফেলে নাচ-গান! নতুন প্রজন্ম খুঁজছে ভালবাসার পাঠ, পারফর্মিং আর্টস-এ পেশাগত সুবিধা কতখানি?

সাধারণত দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা শুরু করা যায়। সে ক্ষেত্রে বিজ্ঞান, কলা অথবা বাণিজ্য— যে কোনও বিভাগের পড়ুয়াই পড়তে পারেন। তবে স্নাতক স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে অনেক প্রতিষ্ঠানেই প্রবেশিকায় উত্তীর্ণ হতে হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৯
পারফর্মিং আর্টস নিয়ে পড়ার খুঁটিনাটি।

পারফর্মিং আর্টস নিয়ে পড়ার খুঁটিনাটি। নিজস্ব চিত্র।

গান ভালবেসে ঘর ছেড়েছিল লখনউয়ের শিল্পপতি বিকে রায়ের একমাত্র ছেলে প্রশান্ত। মুখের উপর বাবা জানিয়ে দিয়েছিলেন, গান গাইলে তাঁর ‘শেল্টার’ ছাড়তে হবে, পৈতৃক ভিটেয় অন্ন জুটবে না ছেলের। —বাকিটা বাংলা চলচ্চিত্র জগতে গানে ভুবন ভরিয়ে দেওয়ার ইতিহাস। উত্তমকুমার-কমল মিত্রের জুটি দীর্ঘ দিন বাঙালির সঙ্গীত প্রেম এবং রোজগারের বিরোধকে ফুটিয়ে তুলেছে।

শুধু ‘রিল’-এ নয়, শোনা যায় বাস্তবে এমন বিরোধের দৃষ্টান্ত শ্যামল মিত্র নিজে। বাবার অমতেই চিকিৎসাবিদ্যা ছেড়ে গানের দুনিয়াকে আপন করে নিয়েছিলেন তিনি। অন্তত নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত যাঁরা স্কুল-কলেজে পড়েছেন, তাঁরা জানেন নাচ-গান-আঁকা শেখাটা ছিল তাঁদের জীবনে অতিরিক্ত। যাকে বলা হয় ‘এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটি’। পড়াশোনা বাদ দিয়ে সে সব করা যেত না কোনও ভাবেই। এমনকি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অষ্টম-নবম শ্রেণির পর সে সব চর্চা বন্ধ হয়ে যেত। কারণ, তার পর মন দিতে হবে মাধ্যমিকের প্রস্তুতিতে।

গত দু’দশকে একটু একটু করে বদলেছে চিত্রটা। ইঞ্জিনিয়ারিং, চিকিৎসাবিদ্যা, আইন বা সাহিত্য পড়ার মতোই উচ্চস্তরে পারফর্মিং আর্টস নিয়ে পড়ার প্রবণতা ক্রমশ বেড়েছে। গতানুগতিক বিষয় ছেড়ে অনেকেই উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নিয়েছেন নাচ, গান, নাটকের মতো বিষয়। সে সবই ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে পেশা। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন পারফর্মিং আর্টস নিয়ে পড়ার পর চাকরির ক্ষেত্র বাড়ছে।

কেমন সুযোগ মিলতে পারে পারফর্মিং আর্টস নিয়ে পড়াশোনা করে?

সাধারণত দ্বাদশ উত্তীর্ণ হওয়ার পরই এ বিষয় নিয়ে পড়াশোনা শুরু করা যায়। সে ক্ষেত্রে বিজ্ঞান, কলা অথবা বাণিজ্য— যে কোনও বিভাগের পড়ুয়াই বেছে নিতে পারেন এই বিষয়। এ রাজ্যে রবীন্দ্রভারতী এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পারফর্মিং আর্টস নিয়ে পড়ানো হয় দীর্ঘ দিন ধরেই। এখন প্রেসিডেন্সিতেও এ বিষয়ে পড়ানো হয়ে থাকে।

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফর্মিং আর্টসের বিভাগীয় প্রধান তরুণ প্রধান জানিয়েছেন, পারফর্মিং আর্টসের মধ্যে নৃত্য, নাটক, রবীন্দ্রসঙ্গীত, কণ্ঠসঙ্গীত, যন্ত্রসঙ্গীত-সহ নানা বিষয় পড়ানো হয়। ভর্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রবেশিকায় উত্তীর্ণ হতে হয়। যে কোনও বিভাগেই প্র্যক্টিক্যাল ক্লাসের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হলেও থিয়োরিও পড়তে হয় পড়ুয়াদের।

আবার, বিশ্বভারতীর ক্ষেত্রে ভর্তির প্রক্রিয়াটা খানিক আলাদা। বিভাগের শিক্ষক বিপ্লব বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিশ্বভারতীতে পারফর্মিং আর্টসের কোনও বিষয়ে ভর্তি হতে হলে কমন ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট (কুয়েট) উত্তীর্ণ হতে হয়। তার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত প্রবেশিকা হয়। সেখানে উত্তীর্ণ হলেই মেধাতালিকার ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়া হয়। বিশ্বভারতীর তরফে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর যে কোনও কোর্স চলাকালীনই ইন্টার্নশিপ করতে হয় পড়ুয়াদের।

কিছুটা ব্যতিক্রমী পাঠক্রম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই প্রতিষ্ঠানে থিয়োরি এবং প্র্যাক্টিক্যাল আলদা ভাবে পড়ানো হয়। পারফর্মিং আর্টসের মধ্যে মিডিয়ার কী প্রভাব পড়ছে, সিনেমাটোগ্রাফি, পারফর্মিং টেকনোলজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা কী শিখছে তার উপর ভিত্তি করেই পাঠ দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্সির পারফর্মিং আর্টসের বিভাগীয় প্রধান নীলাদ্রি রায় বলেন, “পরফর্মিং আর্টসের বিষয় অনেকটাই বিস্তৃত। ভিসুয়্যাল আর্টস, আর্কিয়োলজি-সহ নানা খুঁটিনাটি দিকই এই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। দেশ-বিদেশের ইতিহাস, দর্শন, নন্দনতত্ত্বের সঙ্গে কী ভাবে পারফর্মিং আর্টস জড়িয়ে রয়েছে তাও পড়ানো হয়।” পাশাপাশি তিনি জানান, ফিল্ম স্টাডিজ়, মিউজ়িক থেরাপির মতো বিষয়ে পড়া যায় পারফর্মিং আর্টস পড়ে।

স্নাতকের পর স্নাতকোত্তরের সুযোগ তো থাকেই। তবে, রাজ্যের বাইরে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া-সহ নানা প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া যায়। দেশের বাইরে গিয়েও পিএইচডি- গবেষণার সুযোগ পাওয়া যায়।

পেশাগত দিক—

ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট অথবা স্টেট এলিজিবিলিটি টেস্ট উত্তীর্ণ হয়ে অধ্যাপনার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়াও, গণমাধ্যম বা চলচ্চিত্র জগতেরও নানা ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ মিলতে পারে।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, পারফর্মিং আর্টস ম্যানেজমেন্ট, লেখার ক্ষেত্রে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, শিল্প নির্দেশনা ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ থাকে।

তবে, পারফর্মিং আর্টস এমনই একটি বিষয় যা পড়ার পর কোনও সংস্থার অধীনে সরাসরি নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বিভিন্ন নাট্যদলের সঙ্গে কাজ শুরু করার পরিসর থাকে।

স্বাধীন ভাবে রূপটান শিল্পী হিসাবে কাজ শুরু করা যায়।

এ ছাড়াও গবেষণার কাজের জন্য বিদেশেও পাড়ি দেওয়ার সুযোগ থাকে।

Admission 2026 Dance drama
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy