জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেই বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সময় মুখ্যমন্ত্রীর ভাবনা ছিল, এ বার আর তিনি বাংলাদেশে যাবেন না। যে হেতু মাস তিনেক আগেই তিনি সে দেশে ঘুরে এসেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা জলচুক্তি এবং স্থলসীমান্ত চুক্তির প্রসঙ্গ জড়িত বলে ভাবনা পরিবর্তন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি সূত্রের খবর, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন মোদীর সঙ্গে সফরে মমতাও থাকুন। এর পরে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তার পরেই ঢাকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা। প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর হবে ৬ থেকে ৮ জুন।

সম্প্রতি কলকাতা সফরে এসে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা জলচুক্তি সম্পন্ন হওয়া নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তাতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তৃণমূলের তরফে সে দিন কড়া বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ভূমিকা অস্বীকার করে কেন্দ্রীয় সরকার কেন একতরফা মন্তব্য করতে যাবে, প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। তার পরে অবশ্য বরফ গলাতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রই।

বিরোধী সিপিএম এবং কংগ্রেসের নেতারা অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন, এর আগে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের ঢাকা সফরের সময়েও বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু তখন সরে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা। অথচ এখন এমন কী ঘটল যে, মোদীর সফরসঙ্গী হতে রাজি হয়ে গেলেন তিনি? বিরোধীদের অভিযোগ, সারদা-কাণ্ডের তদন্তে ফের নাড়াচাড়া শুরু হওয়াতেই মুখ্যমন্ত্রীর মোদীর সঙ্গী হওয়ার তৎপরতা!