নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের দীর্ঘ দিন ঝুলে থাকা সেতুর উদ্বোধন করেই কার্যত নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ ফের তুলে রাজ্যকে স্বনির্ভর করার বার্তাও দিলেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করলে কোনও প্রকল্পই থেমে থাকবে না বলে দাবিও করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই দিল্লির ‘জমিদারি’ শেষ করার ডাক দিয়ে তাঁর দাবি, পাঁচ বছরের মধ্যে রাজ্য স্বনির্ভর হবে। গত ১০ বছরে তাঁর সাংসদ থাকার সময়ে ডায়মন্ড হারবারে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে বলে দাবি করে অভিষেকের মন্তব্য, ‘‘প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারও কেন্দ্রেই এত টাকার কাজ হয়নি!’’
চড়িয়াল সেতুর উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে সোমবার মানুষের জন্য রাজ্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধার কথা জানিয়ে ভোট দেওয়ার ডাকও দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বজবজে সাংসদের সভা ঘিরে চোখে পড়ার মতো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে মাইক বাজানো নিয়ে বিধিনিষেধ থাকায় চড়িয়াল সেতু সংলগ্ন একটি ছোট পার্কে সভার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে ওই সভা সরাসরি দেখানোর জন্য একাধিক ‘এলইডি স্ক্রিন’ বসানো ছিল। জিঞ্জিরা বাজার থেকে বজবজ পর্যন্ত রাস্তা ব্যানার, ফ্লেক্স দিয়ে কার্যত মুড়ে ফেলা হয়েছিল। রাস্তার মোড়ে মোড়ে দলীয় কর্মী সমর্থকরা শঙ্খ, কাঁসর, ঢাক, নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাতে জড়ো হয়েছিলেন। বাটানগর উড়াল পুল থেকে নেমে বাকি পথ রোড শোয়ের ঢঙে গিয়েছেন অভিষেক।
প্রায় পাঁচ দশকের দাবি ওই সেতু ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে বলে জানান অভিষেক। এর মধ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকা সেতু তৈরির জন্য খরচ হলেও নতুন প্রশস্ত সেতুর জায়গা বার করতে গিয়ে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি। কম-বেশি ৭০টি দোকান সরানোর পাশাপাশি ২৩৭ জনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। চার লেনের সেতু তৈরি হওয়ায় বজবজ, পূজালি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগের পথ সুগম হবে এবং নতুন সেতু প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের কাজে আসবে বলে জানান তিনি।