পঞ্চায়েত ভোটের কথা মনে করিয়ে দিয়ে লোকসভা ভোটের জন্য সতর্ক করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। জানালেন, ভোটের সময় হিংসা রুখতে তিনি গোটা রাজভবনকেই নামিয়ে আনবেন বাংলার পথে। বাংলার ভোটে পাহারা দেবে ‘ভ্রাম্যমান রাজভবন’।
শনিবার এই ঘোষণা করা হয়েছে বাংলার রাজভবনের তরফে। রাজ্যপাল একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘ভোটের প্রথম দিন থেকে আমি রাস্তায় থাকব। আমি ‘জন রাজভবন’ বা ‘ভ্রাম্যমাণ রাজভবন’ হিসেবে রাস্তায় ঘুরব। সকাল ৬ টা থেকে থাকব রাস্তায়।’’ রাজ্যপাল জানিয়েছেন, ভোটে যাতে বাংলায় কোনও হিংসা না হয়, তা দেখতেই পথে থাকবেন তিনি।
শনিবারই গোটা দেশে লোকসভা ভোটের ঘোষণা। তার আগে বাংলায় কত দফায় ভোট হবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজ্যে ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে এই আলোচনার মধ্যেই বাংলার রাজভবনের তরফে জারি করা হয়েছে এই বিবৃতি। এক বছর আগে হওয়া পঞ্চায়েত ভোটের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সেই বিবৃতিতে এক রকম হুঁশিয়ারি দিয়েই রাজ্যপাল বলেছেন, ‘‘মানুষের রক্ত নিয়ে রাজনীতির হোলি খেলা যাবে না।’’
রাজ্যপাল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হিংসা রুখতেই বাংলার পথে পথে পাহারা দেবেন তিনি। রাজ্যপাল বলেছেন, ‘‘আমি মূলত গুরুত্ব দেব দু’টি বিষয়ে। প্রথম হল হিংসা এবং দ্বিতীয় দুর্নীতি বন্ধ করা। আমি মানুষের ধরাছোঁয়ার মধ্যে হাজির থাকব। পঞ্চায়েতের আগেও বলেছি, এখনও বলছি, মানুষের রক্ত নিয়ে রাজনীতির হোলি খেলা যাবে না।’’ রাজভবনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটের সময় রাজ্যপালের এই পথে পথে ঘুরে তদারকিরই নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভ্রাম্যমান রাজভবন’ বা ‘জন রাজভবন’।
শনিবার অবশ্য এর পাশাপাশি রাজভবনের তরফে আরও একটি নতুন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। যার নাম রাজ্যপালের ‘জল দর্শন’। বাংলায় প্রচুর উপকূলবর্তী এলাকা আছে। সেই সমস্ত উপকূলবর্তী এলাকা বছরভর জল সফরে ঘুরে দেখবেন রাজ্যপাল বোস। রাজভবনের বিবৃতিতে রাজ্যপাল লিখেছেন, ‘‘উপকূলবর্তী মানুষের জীবনধারণ অন্যদের থেকে আলাদা। আমি কোনও উদ্দেশ্য ছাড়া আগেও তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছি। তাঁদের কথা শুনেছি। ভবিষ্যতেও তাই করব। আমার এই ধরনের সফর চলবে। এ বার থেকে আমার বাংলা সফর এবং বাংলাকে আরও ভাল করে জানার মাধ্যম হবে এই ‘জল দর্শন’। সরকারি কর্মচারীদের বলব, অফিসে বসে থাকবেন না। এলাকায় যান। আপনারা সিভিল সার্ভেন্ট। বাংলাকে নতুন ভাবে পরিচালনা করুন।’’